জলদস্যুতায় ঝুঁকে পড়ছে পাথরঘাটার অনেক যুবক ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ নিয়ে আতংকে জেলেরা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পশ্চিম ও পূর্ব তীরবর্তী পদ্মা, রুহিতা, হাড়িটানা, চরলাঠিমারা ও বাদুরতলা গ্রামের অর্ধশতাধিক যুবক বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরা ট্রলারে জলদস্যুতায় জড়িয়ে পড়েছে। এতে পাথরঘাটার ২২ সহস্রাধিক জেলে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পাথরঘাটায় জলদস্যু গ্রুপ সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছের ট্রলারের ব্যবসায়ীরা মাছ নিয়ে পাথরঘাটা বিএফডিসি (বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশন) পাইকারি বাজারে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এতে পাইকারি বাজারের রাজস্ব আদায় কমে গেছে, মাছের বাজারে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। সুন্দরবন কেন্দ্রিক জলদস্যু গ্রুপগুলোর বছরের পর বছর ইলিশ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা অর্থ বাণিজ্যে প্রলুব্ধ হয়ে পাথরঘাটার অনেক যুবক এ পেশায় ঝুঁকছে বলে মনে করেন স্থানীয় জেলেরা। অনেক জেলে পরিবার জলদস্যুদের চাঁদা দিতে দিতে সর্বস্বান্ত হয়ে হতাশা ও ক্ষোভ থেকেও এ দস্যুতায় জড়িয়ে পড়ছে। পাথরঘাটা উপজেলার পশ্চিমে বলেশ্বর নদী, পূর্বে বিষখালী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বলেশ্বরের পশ্চিম পাড় হলো সুন্দরবন। এসব কারণে উপজেলার অধিকাংশ পরিবারের জীবন-জীবিকার অন্যতম উপায় মত্স্য শিকার, মধু আহরণ ও গোলপাতা কাটা। জেলেদের সূত্রে জানা যায়, আগে সাগরে কিংবা সুন্দরবনে যেসব জলদুস্য কিংবা বনদস্যুর কবলে পড়তে হতো তারা ছিল বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের। দু’একটি সোর্স ছিল পাথরঘাটা অঞ্চলের। কিন্তু দু’এক বছরে পাথরঘাটার অর্ধ শতাধিক যুবক জড়িয়ে পড়ছে সরাসরি জলদস্যুতায়। এরা সংগঠিত হয়ে গড়ে তুলছে একাধিক জলদস্যু গ্রুপ। গত বছর স্থানীয় জেলেদের উদ্যোগে পাথরঘাটার উঠতি জলদস্যুদের একটি তালিকা প্রকাশ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তখন ওই তালিকা তেমন গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু গত ৩ ও ৪ জুলাই পাথরঘাটা কোস্টগার্ডের সাথে বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ ০২ জলদস্যুসহ আটক ৪ জলদস্যু ইয়াসিন ওরফে সোহেল, সুমন, কাওসার ও আল-আমীনের বাড়ি পাথরঘাটায় হওয়ায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাথরঘাটায় উঠতি জলদস্যুরা অন্তত ৪টি জলদস্যু গ্রুপ গড়ে তুলেছে। পদ্মা গ্রামের এক সময়ের জেলে মনির গড়ে তুলেছে ১৮ সদস্যের একটি গ্রুপ। হাড়িটানা গ্রামের হালিম ও জামালের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দস্যু গ্রুপ। চরলাঠিমারা গ্রামের সোহগ মোল্লার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১৯। এছাড়া পদ্মা গ্রামের হারুনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ৭ সদস্যের হারুন বাহিনী। বরগুনা জেলার মত্স্যজীবী ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আঃ মন্নান মাঝি ও মত্স্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী পাথরঘাটায় জলদস্যু গ্রুপ গড়ে ওঠার সত্যতা স্বীকার করে প্রকাশিত তালিকা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল চন্দ্র নাথ সাংবাদিকদের জানান, তিনি এখনও কোন তালিকা পাননি। শুধু তালিকা করে পুলিশের কাছে দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তাই যাদের তালিকা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে পুলিশের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেয়া সহজ হয়।