বাঁশখালীর ৩৩ জেলে পরিবার পাচ্ছে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৪, ২২:২৭
সাগরবক্ষে জলদস্যুদের হাতে নির্মম হত্যার শিকার বাঁশখালীর ৩১ জেলে এবং অন্য ঘটনায় নিহত ২ জেলেসহ মোট ৩৩ জেলের পরিবারের জন্য সাড়ে ১৬ লাখ টাকার অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা নাগাদ এই অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলে পরিবারগুলোতে বিতরণ করবেন জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব।
২০১৩ সালের ২৬ মার্চ কুতুবদিয়া-মহেশখালী চ্যানেলের ধরঘাট এবং কুতুবদিয়ার বাতিঘর এলাকায় সশস্ত্র জলদস্যুরা বাঁশখালীর ৩১ জেলেকে বেঁধে নির্মমভাবে খুন করে সাগরে ফেলে দিয়েছিল। অন্য ২ জনকেও সাগরে মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুরা খুন করে সাগরে ফেলে দেয়। এ ৩৩ জেলের মধ্যে ২২ জন বাঁশখালীর শেখেরখীল, ছনুয়া ও গন্ডামারা ইউনিয়নের টেকপাড়া, বলি মাঝি পাড়া, গুইল্যাখালি, বোছার পাড়া, খুদুকখালী, পূর্ব বড়ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। অন্য ১১ জনের বাড়ি রামগতি ও ভোলা এলাকায় হলেও এরা সকলে বাঁশখালীর শেখেরখীল গ্রামে অস্থায়ী বসত ঘর করে থাকতো।
৩১ জেলের মধ্যে গলিত, অর্ধগলিত অবস্থায় ২৭ জেলের লাশ উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্ত ৪ জেলের লাশই পাওয়া যায়নি। সেই বীভত্স স্মৃতি নিয়ে এখনও জেলে পরিবারগুলোতে স্বজনদের আহাজারি চলছে।
শেখেরখীল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিছ বাদশা ও শেখেরখীল ফাঁড়ির বোট মালিক সমিতির সভাপতি এয়ার আলী বলেন, জলদস্যুদের হাতে নির্মমভাবে জেলেরা খুন হওয়ার পরও জলদস্যুরা গ্রেফতার হচ্ছে না। জেলেদের জীবন নিরাপত্তাহীন। অনেক জেলে পেশাই ছেড়ে দিয়েছেন। জলদস্যুদের দমন করতে কঠোর আইনি উদ্যোগ জরুরি। বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান পিপিএম বলেন, ৩১ জেলে নিহত হওয়ার ঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।