রোগ না সারলেও কেউ মরবে না
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৩
‘এ নকল ওষুধ যদি আপনার বাচ্চাকে খাওয়ানে হয়, তখন কী হবে ? - স্যার কিছুই হবে না। তবে এটা আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি এ ওষুধে রোগ না সারলেও কেউ মারা যাবে না। এ ব্যাপারে গ্যারান্টি দিতে পারি’।- এ কথপোকথন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে এ এইচ এম আনোয়ার পাশার সঙ্গে নকল ওষুধ কারখানার মালিক আমিনুল এহসানের। গতকাল বুধবার র্যাব-২ এর একটি টিম রাজধানীর ২৭/৭/এ তোপখানা রোডের পাঁচ তলা বাড়ির নীচ তলায় গড়ে ওঠা একটি নকল ওষুধ কারাখানায় অভিযান চালায়। জব্দ করা হয় ৭ ধরনের নকল এন্টিবায়েটিক ওষুধ, ওষুধ তৈরির উপকরণ, মোড়ক, লেবেলসহ ২০ লাখ টাকার মালামাল। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানা মালিক এহসানকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। দণ্ডিত এহসান তার নীজের দোষ স্বীকার করে জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক লাখ টাকার নকল ওষুধ তিনি মিটফোর্ডে সরবরাহ করতেন, যা মিটফোর্ড থেকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তো।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত এহসান দাবী করেছেন তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর। গত দশ বছর আগে তিনি একটি নামীদামী ওষুধ কোম্পানীর বিপণন বিভাগে (মার্কেটিং বিভাগ) চাকরি করতেন। ঐ কোম্পানীতে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি শুরু করেন নকল ওষুধ তৈরির কারখানা। প্রথম দিকে বিভিন্ন এলাকায় ঘরভাড়া করে এ কারখানা চালাতেন। পরে গত সাড়ে তিন বছর ধরে নিজ বাড়ির (নিজস্ব পাঁচ তলা) নীচ তলায় গড়ে তোলেন এ কারখানা। তবে এতোটাই গোপনীয় ছিল তা প্রতিবেশীরা কখনও আঁচ করতে পারেনি। বাড়ির নীচ তলার তিনটি রুম বাইরে থেকে তালা দিয়ে বন্ধ করে ডুরাসেফ, নাভাসেফ, সিমক্স ও সেফক্সসহ সাত প্রকারের দামি এন্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরি করতেন। এর মধ্যে নাভাসেফ ওষুধটি শিশুদের জন্য এন্টিবায়োটিক ড্রপ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ওষুধের নকল মোড়ক ও লেভেল প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপাতেন।
ম্যাজিস্টেট আনোয়ার পাশা বলেন, দু’ সন্তানের জনক এহসানের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার সন্তানকে যদি এ ওষুধ খাওয়ানো হয় তখন কী হবে? প্রশ্নের জবাবে এহসান কিছু সময় চুপ থেকে বলতে শুরু করে, ‘স্যার কিছুই হবে না। এটা খেয়ে রোগ না সারলেও কেউ মারা যাবে না। এমন নিশ্চয়তা আপনাকে দিতে পারি স্যার। কারণ ওষুধ ঠিকই আছে, তবে নিম্নমানের। বাজার থেকে নিম্নমানের ওষুধ সংগ্রহ করে, তা দামী মোড়কে বাজারজাত করি। আর এ কাজটি সরাসরি নিজেই করি।’
এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক ড. দিদারুল আলম ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক অজিউল্ল্যাহ।