এপিঠ ওপিঠ
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৪, ১৯:২৭
পাগলামি! অবিশ্বাস্য! অতিমানবীয়— জার্মান পত্রিকা বিল্ড এভাবেই লিখেছে। ঠিক তাই বেলো হরিজন্তেতে গত মঙ্গলবার রাতের সেমিফাইনালকে বর্ণনা করতে এই তিনটি শব্দই সবচেয়ে মোক্ষম।
কি নিষ্ঠুর ফুটবল! প্রথম মিনিট দশেক ব্রাজিলিয়ান আক্রমণ সামলালো। একটু গুছিয়ে নিয়ে শুরু করলো আক্রমণ। আর তাতেই লণ্ডভণ্ড ব্রাজিল। গুণে গুণে সাতটা গোল। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এর চেয়ে ন্যক্কারজনকভাবে আর হয়তো শেষ হতে পারতো না।
‘৭-১’ — এমন স্কোরলাইনের পর এখন তাই দুই দেশের গণমাধ্যমগুলোও যেন তাদের দলেরই প্রতীক হয়ে উঠেছে। জার্মানীতে যেমন চলছে তাদের যান্ত্রিক ফুটবলের বিজয় গাথা। তেমনি, ব্রাজিল যেন হয়ে উঠেছে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত কোন ভুখণ্ড। বাইরের গণমাধ্যমগুলোও কম যায় না! স্পেনের ফুটবল বিষয়ক পত্রিকা মার্কা যেমন লিখেছে — ‘বিশ্বকাপ অবমাননা!’
ম্যাচের পরপরই ব্রাজিলের অন্যতম প্রভাবশালী দৈনিক ফোলহা ডি সাওপাওলোর অনলাইন সংস্করণে শিরোনাম ছিল এমন, ‘ঐতিহাসিক লজ্জা’। ফোলহার শীর্ষ কলামিস্ট জুকা কুফরি দুঃখ করে লিখেছেন, ‘ব্রাজিলীয় ফুটবলের ধূসর-দশা!’ তিনি একটি তথ্যও তার লেখায় তুলে ধরেছেন, পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও ব্রাজিল স্বাগতিক হয়েও দু’বার বিশ্বকাপ হারানো দ্বিতীয় দেশ।
গ্লোবো স্পোর্টস তাদের সংবাদ-পোর্টালে এই হারকে অভিহিত করেছে ‘চূড়ান্ত অবমাননা’ হিসেবে। রিও ডি জেনিরোর শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ও গ্লোবো শিরোনাম দিয়েছে কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারির স্বীকারোক্তি দিয়ে। ম্যাচ শেষে এই হারের যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘সব দায় আমারই’।
ইউওএল — এর শিরোনাম ছিল ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে পরাজয়’। সংবাদের ভিতরে তারা লিখেছে, ‘জার্মানি কি আসলেই ব্রাজিলের চেয়ে সাতগুণ ভাল দল? নাকি মাঠের ভুলগুলোরই খেসারত গুণেছে বাজিল?’