এনবিআরে বিএবিএমএ’র চিঠি

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি হচ্ছে ব্যাটারি

দেশে বছরে প্রায় চার লাখ ব্যাটারি আমদানি করা হচ্ছে। এর বেশিরভাগই কম মূল্য দেখিয়ে শুল্কায়ন (আন্ডার ইনভয়েসিং) করে বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। এতে একদিকে দেশীয় ব্যাটারি শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যাকুমুলেটর অ্যান্ড ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবিএমএ) পক্ষ থেকে এনবিআরকে এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে একটি লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিএবিএমএ জানিয়েছে, দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ লাখের বেশি ব্যাটারি তৈরি করা হয়। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টি ব্যাটারি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ১৫ হাজারেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। দেশে তৈরি ব্যাটারি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে কিছু আমদানিকারক কম শুল্ক বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যাটারি আমদানি করছেন। চীন ও কোরিয়াসহ আন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত এসব ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল ব্যাটারি বৈধপথে আসলেও প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্য দেখিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। ফলে এসব ব্যাটারি দেশীয় ব্যাটারির চেয়ে কম মূল্যে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বিএবিএমএ জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইজিবাইকে ব্যবহার উপযোগী ব্যাটারি সাড়ে নয় থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সঠিক শুল্ক দিয়ে বৈধভাবে আমদানি করা হলে এই ব্যাটারির দাম কোনভাবেই ১৪-১৫ হাজারের নিচে হওয়ার কথা নয়। কারণ এর সঠিক দাম ৯০ ডলার বা ৭ হাজার ২শ’ টাকার মতো। এর সাথে শতকরা ৯২ ভাগ কর যুক্ত হলে কেনা দাম পড়বে ১৩ হাজার ৮শ’ টাকার মতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাইরে প্রতিটি ব্যাটারি ৯০ ডলার হলেও আন্ডার ইনভয়েসিং করে ৩৮-৪৫ ডলার দেখানো হচ্ছে। তাই শুল্কায়নের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশ ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। এতে দেশ রাজস্ব হারাচ্ছে, দেশীয় উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও মার খাচ্ছে। বিএবিএমএ’র সচিব এম আই চৌধুরী বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন বা ডব্লিওটিও’র নীতিমালা অনুযায়ী, আমদানি নিষিদ্ধ করা না গেলেও স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় ব্যাটারি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। আমদানিকারকরা মূল্য কম দেখিয়ে নিয়মিত শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছেন। তাই আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধ করতে ফিক্সড ট্যাক্সেশন আরোপ করা যেতে পারে।