‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র চেতনা অখণ্ড মানবধর্ম বোধের সাক্ষ্য’

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, আমাদের জাতিসত্তার পরিচয়-নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যে অসামপ্রদায়িক চেতনার পরিচয় দিয়েছেন তা তাঁর অখণ্ড মানবধর্ম বোধেরই সাক্ষ্য বহন করে। গভীরভাবে ধর্মনিষ্ঠ ছিলেন তিনি কিন্তু ধর্মীয় আচারসর্বস্বতায় বিশ্বাসী ছিলেন না মোটেও। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘জ্ঞানসাধক শহীদুল্লাহ ও তাঁর গবেষণা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক মাহমুদ শাহ্ কোরেশী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অধ্যাপক মাহমুদ শাহ্ কোরেশী বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সমগ্র বিশ্বপ্রেক্ষাপটে এক অনন্য মনীষার নাম। গবেষণা তাঁর কাছে মোটেও উপরিতলের বিষয় ছিল না বরং তাতে তিনি খুঁজে পেতেন প্রাণের আনন্দ। এ কারণেই বহু ভাষার দক্ষতাকে তিনি কারিগরি বিষয় হিসেবে না দেখে ভাষাকে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপ্ত পাঠের পরিপূরক করে তোলেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, শুধু বাংলা ভাষার উত্পত্তি ও উদ্ভবকাল বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর স্বতন্ত্র উদ্ভাবন ছিল না, একই সঙ্গে সিংহলি ভাষার উত্পত্তি বিষয়ক তাঁর মতামতও প্রামাণ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তাঁর দূরবিস্তৃত গবেষণাচিন্তা বঙ্গীয় গবেষণাধারাকে বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে। শামসুমজ্জামান খান বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে যে গভীরতর নিষ্ঠায় গবেষণা পরিচালনা করেছেন তাঁর কোনো তুলনা সমকালে খুঁজে পাওয়া ভার। অসাধারণ পাণ্ডিত্য তাঁর ব্যক্তিত্বে যোগ করেছে মানবিক দ্যুতি। এজন্যই ভাষাতত্ত্বের পরিসর ছাপিয়ে সমাজরাষ্ট্রের নানা সংকটক্ষেত্রে তাঁকে আমরা সোচ্চার হতে দেখি। এদিকে আগামী ১৩ জুলাই রবিবার সকাল ১০টায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ তাঁর সমাধিতে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।