আর্জেন্টিনায় আনন্দের বন্যা
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৩
আর্জেন্টিনার মানুষ এখন আনন্দে ভাসছে। গত বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ২৪ বছর পর আবার ফাইনালে ওঠায় দেশটির রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের রাস্তায় নেমে আসে হাজারো সমর্থক। রাতভর বুয়েন্স আয়ার্সে জয় উদযাপন করার সময় নীল সাদা পোশাকে সজ্জিত সমর্থকদের হাতে ছিলো আর্জেন্টিনার পতাকা।
দুই যুগ পর ম্যারাডোনার উত্তরসূরীরা ফাইনালে ওঠলো। বুধবার ছিলো আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ছুটির দিন ছিলো। স্বাধীনতা দিবসে এমন একটা জয় পেয়ে গোটা দেশের মানুষ এক পতাকার নিচে এসে দাঁড়ায়। খেলা শুরুর পর থেকেই নীল সাদারা অপেক্ষা করছিলো কখন আসবে মেসির পা ছুঁয়ে কাঙ্ক্ষিত জয়। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পায়নি মেসির দল। দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টাইনদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো না। খেলা গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। এরপরও যখন খেলার ফলাফল নির্ধারিত হলো না তখন টাইব্রেকার ছাড়া উপায় কী। এর আগের খেলায় ডাচরা টাইব্রেকারেই কোস্টারিকাকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলো সেমিতে। তাই টাইব্রেকার নিয়ে বেশ উত্কণ্ঠায় ছিলেন আর্জেন্টাইনরা। গোলরক্ষক রোমেরো নেদারল্যান্ডসের প্রথম গোলটি ঠেকানোর সাথে সাথেই বুয়েন্স আয়ার্স, সান জুয়ান, রেসিটেন্সিয়া, বোরেলোসে, করদোবা, মেনদোজা, সান্তা ফে, রোজারিওসহ অন্যান্য বড় বড় শহরে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখতে আসা নীল সাদার সমর্থকরা আনন্দে ফেটে পড়লেন। ডাচদের তৃতীয় শটটিও রোমেরো প্রতিহত করলে আর্জেন্টাইনদের জয় তখন সময়ের ব্যাপার। আর আর্জেন্টিনার চতুর্থ শটে মেক্সি রড্রিগেজের বল জালের ঠিকানা খুঁজে পেলে আনন্দে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। সারারাত নেচে গেয়ে শহর মাতিয়ে রাখে আর্জেন্টাইন ভক্তরা।
দেশটির আর্থিক সংকটের মধ্যেও আর্জেন্টিনার মানুষজন উত্ফুল্ল। রাজপথে নেমে আসা ফুটবল ভক্তরা বলেন, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়ে দেশের আর্থিক সঙ্কটের গুরুভার আমাদের কাছে অনেকটা হাল্কা হয়ে গেছে। ৫৯ বয়সী নরমা ওন্টিভারোস বলেন, অন্য খেলাগুলোতে আমরা খুব একটা ভালো করতে না পারলেও যোগ্যতার নিরিখেই সেমিতে জয় পেয়েছি। এই জয়ের মাধ্যমেই আমরা দেখাতে চাই আমাদের সব কিছুই মন্দ নয়। আমাদের খুব ভালো একটি দল রয়েছে এবং আমাদের মানুষগুলোও ভালো।
টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রাজিলের মাঠে খেলা দেখতে আসা হাজারো আর্জেন্টাইন দর্শক কেঁদে ফেলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তারা একে অন্যকে আলিঙ্গন করেন এবং আকাশের দিকে হাত তুলে ধরেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি দুই যুগ পরে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো। কাঁদতে কাঁদতে এক আর্জেন্টাইন ভক্ত বলেন, ঈশ্বর জানেন আমরা কতটা ধৈর্যধারণ করেছি কিন্তু এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। এখন সব কিছুই আনন্দময় লাগছে।
আগামী রবিবার ফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয়। ২১ বছর বয়সী মারিবেল ওভিয়েডো বলেন, এটা খুব ভালো হয়েছে। আর্জেন্টিনা জিতবে এ বিশ্বাস আমার ছিল। ক্রীড়াঙ্গনে অন্য যে কোন অর্জনের চেয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করাটা তার কাছে বড় মনে হয়েছে।
সিলভিও মার্টিনিজ নামের ৩২ বছর বয়সী এক আর্জেন্টাইন সমর্থক বলেন, জার্মনির বিপক্ষে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার জয়টা ব্রাজিলীয়দের কাছে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো। জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতলে ব্রাজিলের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠোকা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সেটা হবে ব্রাজিলকে শেষ আঘাত।