মোবারক মাহে রমজান

আজ ১২ রমজান। আল্লাহ্র নবী হযরত দাউদ ‘আলায়হিস্ সালামের নিকট যবূর কিতাব নাযিল হয়েছিলো ১২ রমজানে। হযরত দাউদ ‘আলায়হিস্ সালাম যৌবনে বীরযোদ্ধা ছিলেন। তিনি নরপতি তালূতের সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। একবার জালূত (গোলিয়াথ) নামক এক নরপতি বার্বারদের মদদে তালূতের রাজ্য আক্রমণ করলে ভীষণ যুদ্ধ বেধে যায়। এই যুদ্ধে জালূত এবং বিশাল বাহিনী পরাজিত হয়। তালূত বাহিনীর সেই বিজয় সম্ভব হয়েছিলো যুবক দাউদের বীরত্ব ও রণনৈপুণ্যের কারণে। তিনি জালূতকে হত্যা করে বিজয় পতাকা উড্ডীন করেছিলেন। তালূত তার কন্যাকে দাউদের সঙ্গে শাদী দিয়ে দেন। আল্লাহ্র রহমতে অচিরেই দাউদ তদানীন্তন বিশাল ফিলিস্তিন রাজ্যের বাদশাহী প্রাপ্ত হন। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: তারা (তালূতের বাহিনী) যখন জালূত ও তার সৈন্যবাহিনীর সম্মুখীন হলো তখন তারা বললো: হে আমাদের রব্! আমাদের ধৈর্য দান করুন, আমাদের কদম সুদৃঢ় রাখুন এবং সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কওমের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্যদান করুন। সুতরাং আল্লাহ্র হুকুমে তাদের (জালূত ও তার বাহিনীকে) পরাভূত করলো, দাউদ জালূতকে হত্যা করলেন। আল্লাহ্ তাকে রাজত্ব ও হিকমত দান করলেন এবং যা তিনি ইচ্ছা করলেন তা তাকে শিক্ষা দিলেন। আল্লাহ্ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন তাহলে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেতো। আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি অনুগ্রহশীল। (সূরা বাকারা: আয়াত: ২৫০-২৫১)। হযরত দাউদ ‘আলায়হিস্ সালাম মধুর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। যখন তিনি সুমধুর ইল্হানে যবূর পাঠ করতেন তখন সমুদ্রের তরঙ্গ থেমে যেতো, পশু-পাখি দলে দলে এসে তার আশপাশে ভীড় জমাতো। তিনি লোহা দিয়ে হাপর চালিয়ে সুন্দর সুন্দর তৈজসপত্র এবং যুদ্ধাস্ত্র বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেছেন, আমি নিশ্চয়ই দাউদের পতি অনুগ্রহ করেছিলাম।