কিংবদন্তীর কান্নার প্রতিশোধ!
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৪, ২০:১৭
৮ জুলাই, ১৯৯০। রোমের স্ট্যাডিও অলিম্পিকো। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। দুই চিরচেনা প্রতিপক্ষ। আর্জেন্টিনা ও পশ্চিম জার্মানি। ডিয়েগো ম্যারাডোনার সামনে আরেকটি অতিমানবীয় কীর্তি ঘটানোর সুযোগ। ঠিক চার বছর আগের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুটি দেশ। সেবার মেক্সিকোতে এই ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাই হতাশ করেছিল জার্মানদের। ট্রফি তুলে ম্যারাডোনার সেই ভুবন ভোলানো উল্লাসের ছবি হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রতীক। ইতালিতে তাই জার্মানরা খেলতে নেমেছিল প্রতিশোধের মিশন নিয়ে। কিন্তু এ কি! ফাইনালটা জার্মানদের বীরত্বগাঁথা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসে একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা বলে স্বীকৃত হয়ে আছে।
ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ। তাও একটা নয় একাধিক — কার্ড ও চোটের কারণে খেলতে পারবেন না গুরুত্বপূর্ণ চার খেলোয়াড়। ম্যাচের সময়েও আসে বিপদ। ৬৫ মিনিটে পেদ্রো মনজোন লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপরও দাপটের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু রেফারি এডগার্ডো কডেসালের একের পর এক বাজে সিদ্ধান্তের বলি হতে হয় আর্জেন্টাইনদের। ম্যারাডোনাদের জন্য লড়াইটা থেমে গেল ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে। বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ৮৫ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে গেল জার্মানি। আন্দ্রেস ব্রেইমের গোলে জিতে যায় জার্মানি। আগের বিশ্বকাপে বিজয়ের হাসি হাসা ম্যারাডোনাকে এবার মাঠ ছাড়তে হলো বাঁধভাঙা অশ্রু নিয়ে।
১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে পরাজয়ের যন্ত্রণায় কাতর আর্জেন্টিনা কিংবদন্তী ম্যারাডোনা, আর তার চোখের সামনে উল্লসিত রুডি ফোলারদের ল্যাপ অব অনার — রীতিমত ইতিহাসের পাতায় উঠে গেছে এই ছবিটি।
বিশ্বকাপ দেখলো এক পরাজিত-লড়াকু কিংবদন্তীর কান্না! এই কান্নাই কি তার শেষ কান্না? না, ২০১০ সালে ম্যারাডোনা আবার কাঁদলেন। এবার ভিন্ন ভূমিকায়, কোচ ম্যারাডোনার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো অশ্রু। এবারও সেই জার্মানরাই ভিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় কোয়ার্টার ফাইনালে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হল মেসি-হিগুয়েন-অ্যাগুয়েরো-মাশেরানোরা। ম্যারাডোনা বললেন, ‘পতাকা নামিয়ে ফেল!’
এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে কি থাকবে? ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা নিশান উড়বে তো। মারাকানায় মেসিরা ম্যারাডোনার কান্না ভোলাতে পারবেন তো? প্রতিশোধের সুযোগ পেয়ে আর্জেন্টাইনরা জ্বলছে ক্ষোভের আগুনে।
হ্যাভিয়ের মাশেরানোর বয়স এখন ৩০। ১৯৮৬ সালের কথা তার কিছুই মনে নেই। কিন্তু ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপটা দেখেছিলেন টেলিভিশনের পর্দায়। ম্যারাডোনার কান্না ছুঁয়ে যায় তাকেও। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের কথা কি আর ভোলা যায়। অবশ্যই সেই সময়ের কথা আমার মনে আছে। মনে আছে কিভাবে আর্জেন্টিনা হতাশ হয়েছিল। কিভাবে ম্যারাডোনা কেঁদেছিলেন।’
এবারের বিশ্বকাপে কি মাশেরানোরা পারবে ম্যারাডোনার হারানো সম্মান ফিরিয়ে দিতে? পারবে পতাকার মান রাখতে। মাশেরানোর বিশ্বাস পারবে, ‘আমরা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে যা করতে পেরেছি, তাতে দেশের সবাই অনেক আনন্দিত। দুই প্রজন্ম আমাদের সময় ভাল ছিল না, আমরা ফাইনালে উঠতে পারিনি। এবারের বিশ্বকাপটা আমাদের জন্য তাই অন্যরকম একটা ব্যাপার। ফাইনালে আমরা নিজেদের শতভাগ দিয়ে খেলবো। অনেক বছর হল, বিশ্বকাপ পাইনি। এখন গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আমাদের দিকে, আমাদের পতাকার দিকে। আর জার্মানির সাথেও কিছু পুরনো হিসাব জমা আছে। ফাইনালে সবকিছু আমাদের পক্ষেই যাবে। অপেক্ষা করুন!’