সিংগাইরে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির বাস্তবায়নে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ট্যাগ অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের যৌথ যোগসাজশে প্রকল্পের টাকা লুটপাট হচ্ছে। ৪০ দিনের প্রকল্প এলাকায় তথ্য সংবলিত কোন সাইনবোর্ড নেই। শ্রমিকদের তালিকাও গোপন রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের জব কার্ড দেয়া হয়নি। যাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তারা নিজেরাই জানেন না। শ্রমিকদের নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকবে এবং তারাই টাকা তুলবে নিয়মে থাকলেও টাকা তুলছে মেম্বার চেয়ারম্যানরা। এলাকাবাসী জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা নিজেদের লোকের নাম হাজিরা দেখিয়ে বিল উত্তোলন করছে। তালেবপুর ইউনিয়নে রাজেন্দ্রপুর থেকে চারাভাঙ্গা পর্যন্ত যে রাস্তাটি হচ্ছে সেখানে দেখা গেছে কোন শ্রমিক নেই। কোদালও নেই। ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ইসলামনগর ব্রিজ থেকে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত রাস্তায় ধলেশ্বরী নদী থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নদীর পাড়েই ফেলা হচ্ছে। নবী হোসেন ও আনছার আলী জানান, আমাদের সব নদীগর্ভে আগেই চলে গেছে। এখন বসত ভিটে ও গাছপালাও যাচ্ছে চেয়ারম্যানের কারণে। কাশিমপুর কবরস্থান থেকে রাস্তার নাম করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে সর্বনাশ করেছে। ভেকু দিয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে সবগুলো কাজ হয়েছে এ ইউনিয়নে। বৃষ্টির ঢলে ভেঙ্গে গেছে কৃষকের জমি ও রাস্তা। আবার সম্পূর্ণ কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, এ ধরনের কাজে অনিয়ম অন্য ইউনিয়নেও হচ্ছে সেটা লিখছেন না কেন। সিংগাইর সদর, বায়রা, জামশা, ধল্লা, শায়েস্তা, জামির্তা ও বলধারা ইউনিয়নে কাবিটা এবং ৪০ দিনের কর্মসূচিতে বেশি অনিয়ম হয়েছে। ইউএনও শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, আমি এখানে কিছুদিন ধরে এসেছি। এটা হতে দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।