মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন তিনি

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সদ্য প্রয়াত শিল্পী সুবীর চৌধুরীর স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, কর্মধারায় মানুষের মনে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন তিনি। ঈর্ষণীয় কর্মনিষ্ঠা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে শিল্প শিক্ষার প্রসারে যেমন নিয়োজিত ছিলেন তেমনি বিশ্বব্যাপী শিল্পের বাজার সৃষ্টিতেও তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুক্রবার বিকালে বেঙ্গল ফউন্ডেশন সুবীর চৌধুরীর স্মরণে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে। সুবীর চৌধুরীর প্রিয় কর্মক্ষেত্রে এই প্রথম তাকে নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজিত হল যখন তিনি আর নেই। সেই শোক যেন তাড়িয়ে ফিরছিল উপস্থিত শিল্পী-সাহিত্যিক ও শুভ্যার্থীদের। স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন-এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইটালির রাষ্ট্রদূত জর্জিও গুইলিয়েলমিনো, শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী রফিকুন নবী, অধ্যাপক সৈয়দ মনজরুল ইসলাম, শিল্পী নাজলী লায়লা মনসুর, শিল্প সংগ্রাহক দুর্জয় রহমান জয়, গ্যালারি চিত্রকের পরিচালক মনিরুজ্জামান প্রমুখ। এছাড়া শিল্পী শামা রহমান, অদিতি মহসিন ও বুলবুল ইসলাম সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুবীর চৌধুরীর উপরে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সুবীর প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তার এই প্রাণশক্তি যে এত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে তা বিশ্বাস হতে চায় না। সুবীর ছিলেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একজন মানুষ, আন্তর্জাতিক চেতনা ধারণ করতেন। এমন একজন মানুষকে ব্যক্তি পর্যায়ে, সমষ্টিগতভাবে স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে দেব না, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সুবীর চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন সংগঠক হিসাবে কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি সনদ নেয়ার জন্য লালায়িত ছিলেন না। এ জন্য তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা সম্ভব না হলেও মুক্তিযুদ্ধে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সৈয়দ শামসুল হক বলেন, সুবীর থাকবেন তরুণ শিল্পীদের উদ্যমে প্রেরণা হয়ে। শিল্পের নানামুখী উদ্যোগের মাঝে তিনি বেঁচে থাকবেন মানুষের মনে। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, এমন কর্মনিষ্ঠ, কর্মপ্রতিভার মানুষ কম দেখেছি। শিল্পের প্রসারে কাজ করেছেন আজীবন। শিল্পকলায় এগিয়ে নিতে সুবীরের অবদান অপরিসীম।