দোহারে নদীভাঙ্গন, ১২ দিনে বাস্তুহারা ২৫ পরিবার

‘সকাল বেলার বাদশাহ্ রে তুই ফকির সন্ধ্যাবেলা’- কবির এই কথা প্রায় অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই নয়াবাড়ী ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এক সপ্তাহ আগে ৪/৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়। গত ৪ দিনে আরো প্রায় ২০টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই নিয়ে ১২ দিনে ২৫ পরিবার তাদের বসতভিটা হারালো। নয়াবাড়ী ইউনিয়নের নয়াডাঙ্গী গ্রামের হাজেরা বেগম (৫৫)। একদিন আগে তার বসতবাড়ি নদীতে ভেঙে নিয়ে গেছে। বসতবাড়ির অবশিষ্ট অংশে বসে রান্না করছিলেন রহিমা বেগম। আর চোখের জল আঁচলে মুছতে মুছতে বলছিলেন নিজের দুর্ভাগ্যের কথা। বললেন- ‘সকালে যিনি বাড়ির মালিক বিকালে সর্বহারা। আমাগো কপালের এই লিখন আছিলো। আক্ষেপ কইর্যে কি হইবো। গরীব মাইনষের কষ্টে কারো যায় আসে না।’ বাহ্রা গ্রামের বাসিন্দা আলম ব্যাপারী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দোহারে তার নির্বাচনী সভায় দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে পদ্মার ভাঙ্গনরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের অঙ্গীকার করলেও ৬ বছরেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এখনো আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতি শীঘ্র আমাদের এই দাবি বাস্তবায়ন করবেন। সরকার ও জনপ্রতিনিধির পরিবর্তন হলেও দোহারের পদ্মা পাড়ের মানুষের নিয়তির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না এমন অভিযোগ এ অঞ্চলের অনেকেরই। কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে বেড়েছে সে াতের তীব্রতা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাঙ্গন। সারাক্ষণ ভাঙ্গন আতংকে রয়েছে এলাকার মানুষ। জানা গেছে, গত ৪ দিনে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের দেওয়ান বাড়ী মোড় ও নয়াডাঙ্গী গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সহায় সম্বল হারিয়েছে। এলাকার প্রায় ৪শ মিটার জায়গা জুড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় তিনদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারা বাজার, জামালগঞ্জ, ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদরের অনেক নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ছাতক, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেশির ভাগ রাস্তাঘাট। ফলে জেলা শহরের সাথে অনেক উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। হাওর ও নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা, বৌলাই ও যাদুকাটা, চলতিসহ বেশ কিছু নদীতে বিপদ সীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের আরপিন নগর ও বড়পাড়া, নবীনগর উপজেলার রঙ্গারচর, সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ, দক্ষিণ বাদাঘাট, ধনপুর, ফতেপুর ইউনিয়ন, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহলী, সাচনা ইউনিয়ন, দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংহপুর, বোগলাবাজার, মান্নারগাঁও, দোয়ারা সদর ইউনিয়ন, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর, কালারুকা, নোয়ারাই, জাউয়া, দোলার বাজার এবং ছাতক সদর ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদ বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ দিনে ৫৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।