গাবতলী থেকে প্রতিদিন দুই হাজার বাস ছাড়বে
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৪, ২২:৩২
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদে ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো থেকে অতিরিক্ত বাস সার্ভিস দেয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। এজন্য পরিবহন কোম্পানির মালিকরা ঢাকা শহরের সিটিং সার্ভিসের বড় বাসগুলো অগ্রিম ভাড়া নিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঈদের আগে দুইশ পরিবহন কোম্পানির প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার বাস ছেড়ে যাবে। সাধারণত অন্য সময়ে ১৫শ বাস নিয়মিত চলাচল করে। এবার আগেই স্কুল-কলেজ ছুটি ঘোষণা করায় ঘরে ফেরা মানুষের চাপ কমতে পারে বলে মনে করছেন বাস মালিকরা। ১৫ রজমান থেকে শুরু হচ্ছে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বুধবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অন্যান্য বছরের মত এবারও ঘোষণা করা হয়েছে যে, বাস ভাড়া বাড়ানো হবে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কফিলউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ঈদে অন্য সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৫শ থেকে ৭শ বাস চলাচল করবে। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি দূর করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পরিবহন কোম্পানিগুলোর চাপ থাকলেও এবার অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হবে না। যাত্রীদের কাছ থেকে যাতে বর্ধিত ভাড়া না নেয়া হয় তারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ইউজার্স ফোরামের গবেষণা তথ্যে দেখা গেছে, ঈদে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়েন। ঈদের ১০ দিন আগে ঘরে ফেরা শুরু হয়। ঈদের আগের তিনদিন ঢাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ঢাকা ত্যাগ করেন, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত পাঁচগুণ। ঈদে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া, গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে দিনে প্রায় পাঁচশ’ পরিবহন কোম্পানির যানবাহনে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। রাজধানী থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ‘বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন’। মহাখালী, ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ‘ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি’। তবে এবারও অন্যবারের মতো সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঘরমুখী যাত্রীদের বাড়তি টিকিটের চাহিদা পূরণ করা হবে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৫ রজমানের পর থেকে। অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। গাবতলী থেকে ফরিদপুর, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, বরিশাল, রাজবাড়ী, পাবনা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, নড়াইল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জের বাস ছেড়ে যায়।
এছাড়া রাজধানীর ফুলবাড়িয়া থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল জেলার উদ্দেশে গাড়ি ছেড়ে যায়। শহরের বাসগুলোকে ব্যবহার করে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সেবা দিয়ে থাকে বিআরটিসি।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, প্রতি ঈদেই যাত্রী সেবা দিতে গাবতলী থেকে পরিবহন কোম্পাননিগুলো অতিরিক্ত গাড়ি সার্ভিস দিয়ে থাকে। তবে প্রচণ্ড যাত্রী চাপ তৈরি হয় পঁচিশ রমজানের পর থেকে। আর ঈদের দু’দিন আগে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না টার্মিনালে। যে যেভাবে পারে ট্রাকে-বাসে করে বাড়ি ফিরতে চান। ঈদের দু’দিন আগে বা ঈদের একদিন আগে সাধারণত গার্মেন্টস কর্মীদের বাড়ি ফেরার একটা চাপ পড়ে গাবতলী টার্মিনালে।
আরএস ট্রাভেলসের মালিক ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় বরাবরের মতো এবারও ঢাকা শহরের সিটি সার্ভিসের ৫২ থেকে ৫৭ সিটের বাসগুলো অগ্রিম ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এই বাসগুলো ‘কাটা লাইনে’ ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে ফরিদপুর অঞ্চলে সিটি সার্ভিসের বাসগুলো চলাচল করবে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গে এই বাসের সার্ভিস দেয়া হবে। তবে এবার যাত্রীর চাপ অন্যবারের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।