কে জিততে পারে ফাইনালে?
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:০১
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ নানা কারণে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর শুরুটাই হয়েছে এক অভাবনীয় ঘটনা দিয়ে। কে ভাবতে পেরেছিলো গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইউরোপের দাপুটে ফুটবল পরাশক্তি স্পেন একই মহাদেশের আর এক নব নব উদ্ভাবনার জন্য খ্যাত ফুটবল দল হল্যান্ডের কাছে প্রথম খেলাতে ০-৫ গোলে হারার ইতিহাসের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কেউ কি ব্রাজিলের ১-৭ গোলে অপমানজনক হারের কথা দুঃস্বপ্নেও ভেবেছিলো? ইতিহাসের এরকম নানা বিপর্যই এবারের বিশ্বকাপের বৈশিষ্ট্য।
ব্রাজিল বিশ্বকাপের (২০১৪) আর এক বৈশিষ্ট্যময় ধারা হলো: আন্ডারডগদের কাছে বড় দলগুলোর নাকানি-চুবানি খেয়ে কোন রকমে পার পেয়ে যাওয়া। মেক্সিকো, ইরান, চিলি, কলোম্বিয়া, কোস্টারিকা, আলজিরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ক্যামেরুন, ঘানা দারুণ খেলে নতুন ইতিহাসের দিকে উঠে এসেছে। আগামীতে এদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে সেই ইতিহাস রচনার স্বপ্ন দেখতেই পারে। খুব বিশদ না করে ফাইনালের কথা বলি। কে জিতবে বিশ্বকাপ? জার্মানি না আর্জেন্টিনা? এ বিষয়ে ইতিহাসকে দু’ধারায় দেখতে হবে। প্রথম অব্যাহত ধারাটি হলো: ল্যাটিন অ্যামেরিকায় খেলা হলে কোন ইউরোপীয় দল কাপ জিতে ঘরে ফিরতে পারেনি। ইতিহাসের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আর্জেন্টিনারই কাপ জেতার কথা। আর্জেন্টিনা শক্ত এবং যোগ্য দলও বটে। তাছাড়া দলে আছে বিশ্বের এখনকার সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়ার লিওনেল মেসি, যার গোল করার অলৌকিক ক্ষমতা আছে। তার দল বিশ্বকাপ জিতলে আমি খুশিই হবো। কিন্তু এবার শুরুটাই তো হয়েছে ইতিহাসের বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের ঝানু কোচ দেল বক্সকে প্রথম খেলাতেই পথে বসিয়ে পাঁচ গোলে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো হল্যান্ড। এছিলো এক অভাবনীয় ঘটনা এবং সেই সঙ্গে বড় বিপর্যয়ও বটে। কে ভেবেছিলো সেমিফাইনালে ব্রাজিল জার্মানির কাছে হেরে যাবে ১-৭ গোলে। তাই ফাইনালে ল্যাটিন অঞ্চলে হানা দিয়ে দুর্দান্ত জার্মানরা কাপ ইউরোপে নিয়ে যাবে না, এতোটাই দৃঢ় ঐতিহ্যবাদী হতে পারছি না। ইতিহাসের দ্বিতীয় ধারার দিকে তাকালে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস রাখা কঠিন। জার্মানরা তো ঐতিহ্য ও ইতিহাস ভাংতেই পারঙ্গম। ১৯৭৫-৩ টোটাল ফুটবলের অনন্য পরাক্রমশালী ক্রুইফের হল্যান্ডকে হারিয়ে এবং ১৯৯০-এ ম্যারাডোনার দুর্দান্ত আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে। অতএব এই বিশ্বকাপে জার্মানি যে ইতিহাসকে উল্টে দিয়ে কাপ ঘরে নেবে না, একথা কি বলা যায়। মুলার, ক্লোজা, খেদিরা, ম্যাতট, হ্যামেলস, লাম তো মুখিয়েই আছে, ন্যায়ারের মতো গোলরক্ষক।
তবে মেসির স্বপ্নের গোল বা নিশ্চিত গোলের পাস দিতে পারলেই কিছু আশা আর্জেন্টিনার। কিন্তু জোয়াকিম লো তো সে পথের ফন্দি-ফিকির তো নিশ্চয়েই এঁটে রেখেছেন।