জ্বলে উঠুক তারকারা
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল রি ডি জেনেরিও ব্রাজিল
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:২৪
লিওনেল মেসি বার্সেলোনার প্রতি অনুগত, জাতীয় দলের হয়ে অতটা দায়বদ্ধ নয়, এমন সমালোচনার তীরে বিদ্ধ মেসি জ্বলে উঠছেন সময়মতো। আলেসান্দ্রো সাবেলা কোচ হওয়ার পর তিন বছরে তার গোল ১৯টি। ১০টিই বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে। সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নাম থাকলেও দেশকে বিশ্বকাপ উপহার দিতে না পারার বদনাম রয়ে গেছে। যেটি দিয়েছিলেন পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা, বেকেনবাওয়ার, জিনেদিন জিদান। মেসি অবশ্য এবার নীরবে হলেও এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম তিন ম্যাচে তার গোল চারটি। মেসির সঙ্গে একটা মিল আছে মিরোস্লাভ ক্লোসা ও টমাস মুলারের। ২০০৬ বিশ্বকাপের ক্লোসা (৫টি) ও ২০১০ বিশ্বকাপে মুলার (৫টি) গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব গোল্ডেন বুট জিতেছেন ঠিকই, দেশকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিতে পারেননি। ক্লোসার হয়তো এ বিশ্বকাপই শেষ। ১৬ গোল করে রোনালদোকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার মালিক এখন তিনিই। মুলারের এখন যা বয়স তাতে পরের বিশ্বকাপও খেলতে পারবেন। তবে তার সুবর্ণ সময় যাচ্ছে এখনই। পাঁচ গোল করে এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা কলম্বিয়ান জেমস রডরিগেজের (৬টি) পেছনেই রয়েছেন মুলার। ক্লোসা ও মুলারের স্বপ্ন এখন বিশ্বকাপ জয় করা। যেটি মেসির ক্ষেত্রেও জরুরি হয়ে গেছে। মেসির সাথে মুলার বা ক্লোসার লড়াইটা জমবে। প্রমাণিত হবে কে শ্রেষ্ঠ।
সব রেকর্ড অর্জনের পর এই সময়ের সেরা তারকাদের সামনে এখন বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। অধিনায়ক মেসির উপর প্রত্যাশার চাপ যে পাহাড়সম, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তিনি একা নন। তার সঙ্গে জ্বলে উঠবেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, হিগুয়েইন, আগুয়েরো, ম্যাশেরানো। ম্যাশেরানো, মেসি, ডি মারিয়া তিনজনই সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছেন। গোল্ডেন বুট জুটতে পারে যে কারো ভাগ্যে। ডি মারিয়া সেমিফাইনাল খেলতে পোরেননি। তাই ফাইনালে সেরাটা দিতে কার্পণ্য করবে না রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার। চোট থাকা ডি মারিয়া যদি মাঠে থাকেন তাহলে মেসি তার সহযোগিতা পাবেন। আর্জেন্টিনার আস্থা বলতে মেসির পরই চলে আসে ডি মারিয়ার নাম।
মাঝমাঠে ম্যাশেরানো-গ্যাগাদের পাশে থেকে হিগুয়েইন-মেসি-আগুয়েরোদের গোলের জোগান দেয়াই ডি মারিয়ার কাজ। ষোল দলের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোলও পেয়েছেন তিনি। আগের ম্যাচগুলোতে নিষ্প্রভ থাকা হিগুয়েইন সময় মত জেগে উঠেছিলেন বলেই তার প্রতি কোচ সাবলোর স্নেহটা বেশি। নেপোলির স্ট্রাইকারটি খেলে চলেছেন দুর্দান্ত। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার আট মিনিটের গোলেই সেমিফাইনালের টিকিট পায় মেসিরা। সার্জিও আগুয়েরো এবার গোল পাননি ঠিক, তবে তার খেলা খুবই ক্ষুরধার। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারেন ম্যানচেষ্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাশেরানোতো মাঝমাঠের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা রাখেন। লড়াইটা জমিয়ে তুলবেন আর্জেন্টিনার এ কয়েকজন লড়াকু ফুটবলার।
জার্মানীর রয়েছে এক ঝাঁক তারকা ফুটবলার। টনি ক্রুস, মুলার, ফিলিপ লাম, মাটস হামেলস চারজনই গোল্ডেন বলের দাবিদার। এরা শিরোপা জিতে দাবিটা আরো জোরালো করতে চাইবেন এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। মুলার, ক্লোজা, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার তো আছেনই। ২৯ বছর বয়সী বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার শোয়েনস্টাইগারকে জার্মান দলের ‘ইঞ্জিন’ বলা হয়। মাঝমাঠ দাপিয়ে বলের জোগান দেয়া যেন তার নেশা। বড় ম্যাচে জ্বলে উঠার অসীম ক্ষমতাও রয়েছে তার। হয়তো আজকেও তার ব্যত্যয় ঘটাবে না।
টমাস মুলারের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। মুলার নামের বিস্ময়কে প্রথম দেখে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। দল তৃতীয় হলেও ২১ বছর বয়সে গোল্ডেন বুটের মুকুট পড়েছিলেন ঠিকই। সে রাজত্ব ধরে রাখতে বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডারকে অন্তত আরো একটি গোল যে করতেই হবে। মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হলেও মুলার দলের প্রয়োজনে আক্রমণভাগের সব পজিশনেই খেলতে পারেন। তার প্রমাণও দিয়েছেন ইতোমধ্যে। ফাইনালেও তিনি পারফরমেন্সের অগ্নস্ফূিরণ ঘটাবেন বলে ভাবা হচ্ছে। অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব ফিলিপ লামের উপর। বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ২০১০ সাল থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বসেরা লেফট ব্যাকের খেতাব পাওয়ার পাল্লা ভারি করে ফেলেছেন। দুই বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেয়া দলের সাফল্যের অন্যতম এই কারিগরের দিকে চোখ রাখতেই হবে। টনি ক্রুস ও মাটস হামেলসও ফাইনালে আলো ছড়াতে পারেন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ডিফ্লোর হামেলস জার্মান ডিফেন্সের অন্যতম ভরসা। মিডফিল্ডার টনি ক্রুস তো দুটি গোল করেছেন। সব মিলিয়ে ফাইনালের মঞ্চ সেরাদের সেরা নৈপুণ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এমন আশা করাই যায়।