হাতিয়ায় ১০৫টি আশ্রয় কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা
কৃষ্ণ মজুমদার, হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:৩২
হাতিয়া দ্বীপের চতুর্দিকে রয়েছে নিঝুমদ্বীপ, ঢালচর বয়ারচরসহ অনেক জনবসতিপূর্ণ চরাঞ্চল। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে গত ৩০ বছরে প্রায় অর্ধলক্ষ লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর বিভিন্ন দাতাসংস্থা ও সরকারি অনুদানে ১০৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। অপব্যবহার ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা। অধিকাংশ কেন্দ্রের দরজা-জানালা নেই, নলকূপ অকেজো, ল্যাট্রিনগুলো অপরিষ্কার। অনেক আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার মত পথ নেই। গরু মহিষ বছরের অধিকাংশ সময় শেল্টারগুলো নোংরা করে রাখে। অনেকের বাড়ির দরজায় নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আলু, মরিচ, বাদাম, ডাল, ধান, পাটসহ বিভিন্ন শস্য রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া কিছু কিছু আশ্রয় কেন্দ্রের দেয়াল ও ছাদের আস্তর খসে পড়ছে। নিঝুমদ্বীপের একটি আশ্রয় কেন্দ্রের সামনে থেকে মাটি খনন করে পুকুর তৈরি করায় আশ্রয় কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। শেল্টারের পাশে মাটি না থাকায় শেল্টারটি ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। ফলে ঝড়ের সময় আশ্রয় কেন্দ্রের ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে চায় না। একদিকে কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি অপরদিকে দুর্যোগ মুহূর্তে অসহায় লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।
নির্মিত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ২২টি, বিশ্বব্যাংক ১৮টি, কারিতাস ৯টি, হীড বাংলাদেশ ২টি, সৌদি অনুদানে ৪৩টি, জাপান অনুদানে ৬টি, প্রশিকা ৪টি এবং অক্সফাম ১টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে।