ঈদের কেনাকাটা
নারী উদ্যোক্তাদের বাহারি পণ্যের জয়জয়কার
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৭
জমতে শুরু করেছে, নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নের আত্মপ্রকাশের স্থান জয়িতা। দেশের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র এটি। এতে রয়েছে তৃণমূলের নারীদের হাতের কাজ আর নিজেদের ডিজাইন করা পণ্য সামগ্রী। ক্রেতা আকর্ষণে জয়িতা দিচ্ছে ‘লাকি কুপন’ সুবিধা। হাজার টাকার পণ্য সামগ্রী কিনলে পাওয়া যাচ্ছে লাকি কুপন। ক্রেতারা বলেছেন, জয়িতার পণ্য ভালো তবে এর প্রচারণা নেই। গতকাল ধানমন্ডি রাপা প্লাজার তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় অবস্থিত ‘জয়িতা’ ঘুরে দেখা যায়, নতুন ক্রেতার অভাব। বিক্রেতারা বলছেন, আমাদের কিছু সিলেকটিভ ক্রেতা রয়েছে; যারা তাদের যে কোন পণ্য সামগ্রী কিনতে জয়িতা’তেই আসেন।
বাগেরহাট ‘দ্বীপ মহিলা সংস্থা’র স্বত্বাধিকারী দিল ফারজানা ফারুকী বলেন, আমার কিছু সিলেকটিভ কাস্টমার কেবল আসছেন। তবে নতুন ক্রেতাদের জয়িতা খুঁজে পেতে কিছুটা কষ্ট করতে হচ্ছে। তিনি তার পণ্য সামগ্রী নিয়ে আশাবাদী যে, জয়িতার পণ্য একবার কিনলে দ্বিতীয়বারও তারা এখানেই আসবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশীয় পণ্য সামগ্রীর শোরুম থেকে আমাদের এখানে পণ্য সামগ্রী দামে অনেক সস্তা। আমরা ২/৩ শত টাকা লাভ রেখে পণ্য বিক্রয় করে থাকি।
‘দ্বীপ মহিলা সংস্থা’র এ-৮৫ স্টলে শপিং করতে আসা দম্পতি জুলেখা সুলতানা শান্তা ও মাহবুব মোর্শেদ বলেন, আমরা গতবছরও ঈদের শপিং এখান থেকেই করেছি। এবারও এখানেই এসেছি। জুলেখা সুলতানা বলেন, আমি চট্টগ্রামে থাকি, ঢাকায় এলে, জয়িতাতেই কেনাকাটা করি। এক ছাদের নিচে সব ধরনের পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায়, এটা অনেক বড় বিষয়।
এখানে পাওয়া যাচ্ছে, ঢাকাই মসলিন জামদানি, তাঁতের শাড়ি, থ্রিপিস, বিছানার চাদরসহ রকমারী পণ্য সামগ্রী। স্বত্বাধিকারী দিল ফারজানা ফারুকী বলেন, আমাদের সংস্থার শাড়ি ভারত ও লন্ডনে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ১৬ বছর আগে মাত্র ৯ জন নারী নিয়ে শুরু হয় এই দ্বীপ মহিলা সংস্থার যাত্রা। এখন হাঁটি হাঁটি পা পা করে এর বয়স যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এর সুখ্যাতি। ঈদ উপলক্ষে বিখ্যাত ঢাকাই মসলিন শাড়ি, রাজশাহী সিল্ক ও তাদের শাড়িতে হাতের কাজের পাশাপাশি করা হয়েছে, এমব্রয়ডারি, এপ্লিক আর ডলার বসানো নিখুঁত কারুকাজ। এসব শাড়ির দাম পড়ছে ৬ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা।
‘রাঙামাটির হস্তশিল্প’ স্টলটিতে পাওয়া যাচ্ছে, তাঁতের ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক, শার্ট ইত্যাদি। রাঙামাটির বিক্রয় প্রতিনিধি প্রিয়াংকা চাকমা বলেন, গত বছরের ঈদের তুলনায় এবার বেচাকেনা কিছুটা কম। তবে খুব শীঘ্রই বেচাকেনা জমে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি।
মোস্তাকুর রহমান সোহেল নামের একজন ক্রেতা বলেন, জয়িতার পণ্য সামগ্রীর মান খুব ভালো। তবে জয়িতার আরো প্রচারণা দরকার। তিনি বলেন, খুব ছিমছাম পরিবেশে নারীরা তাদের পণ্য সামগ্রী সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছেন, যা একজন ক্রেতাকে সহজেই আকৃষ্ট করে।
জয়িতার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তারা তাদের স্বপ্নের সৃষ্টি তুলে ধরছেন জয়িতায়। ঈদকে ঘিরে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে রয়েছে র্যাফেল ড্র’র ব্যবস্থা। আসছে ১৪ আগস্ট এই লাকি কুপনের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। ৩৯টি পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে—ফ্রিজ, টিভি, মাইক্রো-ওভেন, মোবাইল সেট ও আয়রন। জয়িতার ফুডকোডে রয়েছে ইফতারির ব্যবস্থা। তাছাড়া জয়িতায় সারা বছরেই পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের কেমিক্যাল মুক্ত খাদ্যদ্রব্য।
পঞ্চমতলায় খাবারের মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল মুক্ত মুড়ি, ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল, হাতে তৈরি চিড়া, তিলের তেল, সরিষার তেল, ঘি, আটা, আচার, মসুর ডাল, মাসকালাইয়ের ডাল, চালের গুঁড়া, সব ধরনের মসলা, চিড়া-কাউন এর মোয়া, নারকেলের নাড়ু ইত্যাদি। রয়েছে একটি ফুডকোড। রন্ধন শিল্পীদের হাতে ঘরোয়াভাবে রান্না করা খাবারের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে ইফতার। এসব খাবার নারীরাই পরিবেশন করে থাকেন সেখানে। সম্পূর্ণ নারীদের দ্বারা পরিচালিত একটি বিপণন কেন্দ্র জয়িতা। আছে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। সেখানে জয়িতার ক্রেতাদের বিনোদন দিতে বাঙালির ১২ মাসের তের পার্বণের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন থাকে। যেমন পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ, পহেলা ফাল্গুন, একুশে ফেব্রুয়ারি, বর্ষা উত্সব কিংবা ভ্যালেন্টাইন ডে, ফ্রেন্ডস ডে, মাদার্স ডে এর মতো উত্সবগুলো। বিভিন্ন উত্সবকে ঘিরে থাকবে উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর চালু হয় বিপণন কেন্দ্রটি। এখানে শাড়ি, থ্রিপিস, শিশুদের পোশাক, সার্ট পাঞ্জাবি, ফতুয়া ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি সুচিকর্ম, বাঁশ, বেত, হোগলাপাতা, নারকেলের মালাই দিয়ে তৈরি শো-পিস, তালের আঁশ, পাটের পুতুল, শো-পিচ, ঘরের মেঝেতে বিছানো কারুকাজ করা পাটের ম্যাট, ফুলদানি, কয়েনপার্স ইত্যাদি নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।