চিতলমারীতে বাগদা চিংড়িতে ভাইরাস

চিতলমারীতে বাগদা চিংড়িতে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চিংড়ি চাষিদের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে বলে মত্স্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইতিমধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১২০ হেক্টর জমির ঘেরের বাগদা মাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে চিংড়ি চাষিরা দাবি করেছেন। ভাইরাসের আক্রমণ থেকে ঘেরের মাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য চাষিরা কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না। অনেকে ঘেরে ছিটাচ্ছেন বিভিন্ন রকম তরল ওষুধ। অবলম্বন করছে স্থানীয় সাধু-ফকিরদের কাছ থেকে পানি পড়া, লাল পতাকা টানানোসহ নানা কিছুর ওপর। চিতলমারী মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর এখানে ১৫৭৬.৩০ হেক্টর জমিতে নিবন্ধনকৃত ৩৭৭৫টি বাগদা ঘের ৩৪৬১.৩৫ হেক্টর জমিতে নিবন্ধনকৃত ৮৫৫৫টি গলদা ঘেরে চিংড়ি চাষাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু বাগদা চিংড়ি বিভিন্ন গ্রেডে ওঠার সাথে সাথে ব্যাপকভাবে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। অনেক ঘেরে চিংড়ি মাছ একেবারেই নেই বলে চাষিরা জানান। শ্রীরামপুর গ্রামের জীবন বৈদ্য জানান, তার ১০ বিঘার ঘেরে ৮০ হাজার বাগদা চিংড়ি, মিন্টু সরদারের ৮ বিঘার ঘেরে ৫০ হাজার চিংড়ি, মনি মোহন বালার ৪ বিঘার ঘেরে ৫০ হাজার, ডুমুরিয়া গ্রামের প্রকাশের ২৫ বিঘার ঘেরে ১ লক্ষ ২০ হাজার, খিলিগাতী বাবলু মন্ডলের ১৫ বিঘার ঘেরে ৭৫ হাজার বাগদা চিংড়ি মরে গেছে। এসব এলাকা ঘুরে জানা গেছে ১৫/২০ দিন আগেও বাগদা চিংড়িতে কোন সমস্যা ছিল না। হঠাত্ বৃষ্টি এবং প্রখর রৌদ্র তাপের পর ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে। চাষিরা জানান, গতবার চিংড়ির দাম বেশি থাকার কারণে ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ক্ষতির পরিমাণ সহনশীল ছিল। এদিকে ওষুধ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন তরল ওষুধ ভাইরাসের আক্রমণ রোধের জন্য চাষিদের নিকট বিক্রি করছে। কিন্তু এতে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে চাষিরা জানিয়েছেন। নতুনভাবে জাপান থেকে আমদানিকৃত কেমিক্যাল মুক্ত মাছের ওষুধ ‘পিআরএইচ’-এর চাহিদা এলাকায় ব্যাপকহারে রয়েছে। কিন্তু মূল্য বেশি হওয়ার কারণে চাষিরা এটা ব্যবহার করতে পারছেন না। অনেক চাষি জানান, এটি ব্যবহারের ফলে তাদের ঘেরের পানি ও মাছের পরিবেশ আগের মতই আছে। এ ব্যাপারে চিতলমারী মত্স্য কর্মকর্তা জানান, তার কাছে চিংড়ি ঘেরে ভাইরাসের আক্রমণের কোন খবর আসেনি। তবে তিনি জানান, এখানে চাষিরা মাছের অপরিপক্ব হ্যাচারি রেণুর চাষাবাদ করে এবং তারা মানসম্মত খাবারও ব্যবহার করে না।