বিশ্ব জুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৫
পবিত্র রমজান মাস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে একদিকে সংযম এবং অন্যদিকে আনন্দের মাস। কারণ এই মাস গেলেই মুসলমানদের খুশির ঈদ। এই মাসে সারা বিশ্বের মুসলমানরা যখন রোজা রাখা এবং মা-বাবার আদরের ছোট্ট শিশুটির জন্য জামা-কাপড় কেনায় ব্যস্ত তখন একটি ভিন্ন চিত্র ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। সেখানে ইসরাইলের বর্বর হামলার শিকার হয়ে কোনমতে জীবন বাঁচাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মুসলামানদের। গত ৫ দিনে ইসরাইলের নৃশংস হামলায় নারী-শিশুসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে। এই হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সারা বিশ্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও তোয়াক্কা করছে না ইসরাইল। সব আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। খবর বিবিসি, এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডন এর।
জাতিসংঘের একটি সংস্থা বলছে, গত পাঁচদিন ধরে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় যত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে তার তিন-চতুর্থাংশই বেসামরিক লোক। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ওপর যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা ইসরাইল সামরিক অভিযানের সময় মেনে চলছে কিনা সে ব্যাপারে খুবই সন্দেহ রয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হামলার সময় শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া
যাচ্ছে যা খুবই উদ্বেগজনক। ফিলিস্তিনী কর্মকর্তারা বলছেন, এ পর্যন্ত এই আক্রমণে ১২৮ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক এবং শিশু।আহত হয়েছেন ৯২০ জনেরও বেশি। হামাস জানিয়েছে, মসজিদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলী বাহিনী শুক্রবার রাতে গাজার ওপর মোট ৬০টি বিমান হামলা চালায়। এ নিয়ে গত পাঁচদিনে এক হাজারেরও বেশি আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইসরায়েল বলছে, হামাসের জঙ্গীদের দিক থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের মধ্যে শত শত রকেট নিক্ষেপ বন্ধ করার জন্যই তারা এই আক্রমণ চালাচ্ছে। এসব রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত কোন ইসরায়েলি নিহত হয়নি।
ফিলিস্তিনি হাসপাতাল সূত্রগুলো বলছে, গত রাতে বেইত লাহিয়া শহরে একটি দাতব্য সমিতির ভবনে বিমান হামলা হলে দুইজন প্রতিবন্ধী কিশোর নিহত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভব সবকিছুই করছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ফোনে কথা বলেছেন। মিসর ও তুরস্ক ইসরাইলের শক্তি ব্যবহারের সমালোচনা করেছে। নেতানিয়াহু বলছেন, কোন আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তিনি গাজায় হামলা বন্ধ করবেন না। ইসরায়েলী মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ইয়াকভ পেরি বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোক হতাহত হচ্ছে কারণ হামাস তাদেরকে মানবঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনী প্রতিনিধি অধ্যাপক মানুয়েল হাসাসিয়ান এ কথা অস্বীকার করে বলেছেন, হামাস লোকদের মানবঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে বলেই বেসামরিক লোক নিহত হচ্ছে তা নয়। গাজার মতো ছোট্ট একটুখানি জায়গায় ১৮ লাখ লোক বাস করে। এখানে হামাসকে লক্ষ্যবস্তু করা মানে সব ফিলিস্তীনিকে লক্ষ্যবস্তু করা। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর থেকে কোন রকেট হামলা হচ্ছে না কিন্তু সেখানেও নির্বিচারে হত্যা চালানো হচ্ছে।
পবিত্র রমজানে গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ নিন্দা ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। শুক্রবার মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ ও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে এসব বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, জর্ডান, তিউনিসিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা গাজায় চলমান হামলার অবসান এবং ফিলিস্তিনীর স্বাধীনতা দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েল দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনের হাজার হাজার সমর্থক।