বাগমারায় এলজিএসপির অর্ধকোটি টাকা লোপাট!
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৯
রাজশাহীর বাগমারায় স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্পের (এলজিএসপি) ৮০টি প্রকল্পের প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি ও জনপ্রতিনিধিরা অর্থ লোপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে এলজিএসপি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন অধিশাখা প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ দিয়ে ৮০টির মতো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে ইউনিয়ন পরিষদ। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি উপজেলা থোক মঞ্জুরি সমন্বয় সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। পরে প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করে জুন মাসের মধ্যেই চেয়ারম্যানরা প্রকল্পের অর্থ তুলে নেন। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আরো অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রায় সব ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে অন্তত: ১২টির কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানা গেছে। বাকি চারটি প্রকল্পও নামকাওয়াস্তে কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, অধিকাংশ প্রকল্পই ভুয়া। আবার অন্য খাতের অর্থ দিয়ে বাস্তবায়িত বেশ কিছু প্রকল্প দেখানো হয়েছে এলজিএসপির প্রকল্পে। আর কিছু প্রকল্প দায়সারাভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অদৃশ্য প্রকল্প হিসেবে অধিকাংশ ইউনিয়নে রিং-পাইপ সরবরাহ, নলকূপ স্থাপন ও রাস্তা সংস্কারের মতো প্রকল্প নেয়া হয়। প্রতিবছরই এসব প্রকল্প কাগজ-কলমে দেখানো হয়। অন্তত ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, ‘সুন্দরভাবে’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এসব প্রকল্পের প্রায় অর্ধ-কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে এ অর্থ থাকায় তছরুপে সুবিধা হয়েছে। বিজিসিসি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এসব প্রকল্পের অর্থ পরিষদের নিজস্ব হিসাবে থাকে। কাজের ব্যস্ততায় সব প্রকল্প ঘুরে দেখা ও খোঁজ নেয়া সম্ভব হয়নি। কিছু অনিয়ম থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব প্রকল্পের সব দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের। তারাই এসব প্রকল্পের সভাপতি। তাই কোনোরকম তছরুপ করলেও আমাদের কিছু করার থাকে না।’
উপজেলা পরিষদের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সইপাড়া থেকে বাসুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ইট বিছানোর জন্য ১ লাখ টাকার এডিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঐ অর্থবছরের একই প্রকল্প দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লুত্ফর রহমান দাবি করেছেন, তিনি এলজিএসপির টাকায় ঐ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।