সৈয়দপুরে প্লাস্টিক বস্তার দাপটে ৪ পাটকল বন্ধের উপক্রম
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২১:৪১
প্লাস্টিক বস্তার দাপটে পাটের তৈরি বস্তার চাহিদা কমে যাওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৪টি ক্ষুদ্র পাটকল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে বস্তার রফতানিতে ধস নামায় পাটকলগুলো অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। লোকসান ঠেকাতে পাটকল মালিকরা কারখানার উত্পাদন ৫০ ভাগ কমিয়ে দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, পণ্য প্যাকেজিংয়ের সর্বক্ষেত্রে প্লাস্টিক বস্তার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটের বস্তার ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। পাটের বস্তার মূল্যের তুলনায় প্লাস্টিক বস্তা সস্তা হওয়ায় পণ্য প্যাকেজিং শিল্পের মালিকরা পাটের বস্তার বদলে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করছে। ফলে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে পাটের বস্তার বাজার। বাজারে চাহিদা না৬ থাকায় কোটি কোটি টাকার পাটজাত পণ্য আটকা পড়েছে পাটকল গুদামে। এসব পণ্য বাজারে বিক্রি না হওয়ায় বিনিয়োগ করা টাকা তুলতে পারছে না পাটকল মালিকরা। ফলে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো। লোকসান ঠেকাতে উত্পাদন হ্রাসসহ শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে মালিকরা। ইতোমধ্যে ছাঁটাইয়ের কবলে পড়ে প্রায় কয়েকশ’ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে পোদ্দার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক রাজকুমার পোদ্দার জানান, পাটের বস্তার ক্রেতা মিলছে না। ফলে তাদের বিপুল পরিমাণ পাটজাত পণ্য গুদামে আটকা পড়ে আছে। পুঁজি আটকে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পাটকল মালিকরা জানান, সরকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক বস্তার উত্পাদন নিরুত্সাহিত করতে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ব্যবহারে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেটে পণ্য প্যাকেজিংয়ে বস্তার ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ না থাকায় সুফল পাচ্ছে না পাটকল মালিকরা। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষুদ্র পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশংকা ব্যক্ত করেন তারা।