চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির নিরাপদ হাট সাতক্ষীরায়
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৭
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ও ছিনতাইকৃত অধিকংশ মোটরসাইকেল বিক্রির প্রধান হাট বসে সীমান্ত শহর সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতি শুক্রবার বসে এসব হাট। তবে জাল কাগজপত্র (এমন নিখুঁতভাবে করা হয় যাতে ক্রেতারা আসল হিসাবেই ধরে নেয়) দেখিয়ে বিক্রি করা হয় এসব মোটরসাইকেল। ক্রেতার সিংহভাগই গ্রামের সাধারণ মানুষ। তারা কাগজপত্র খুব একটা যাচাই করে না। ফলে কোনো রকম ঝুট-ঝামেলা পোহাতে হয় না। সব খরচ (চোরকে দেয়াসহ অন্যান্য) মিটিয়ে প্রতি মোটরসাইকেল থেকে লাভ পাওয়া যায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছেন আশিকুর রহমান ও মনিরা পারভীন। গত ৭ জুলাই মিরপুর থানা পুলিশ ২২৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে দলনেতা আশিকুর রহমান, মনিরা পারভীনসহ ১৫ জনকে। মিরপুর থানা পুলিশ তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গত শনিবার ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী মিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রাসেল জানান, আশিকুর রহমানের বাড়ি যশোরে। অপর দলনেতা সাতক্ষীরার দেভাটা এলাকার মিলন মনিরা পারভীন তার স্ত্রী। মিলন পলাতক রয়েছে। মনিরা পারভীন মিলনকে সহায়তা করে থাকে। তবে এরা সরাসরি চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। এদের তত্ত্বাবধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে সিন্ডিকেট। এ চক্রই মোটরসাইকেল ছিনতাই বা চুরির পর প্রথমে কোনো নির্ধারিত স্থানে জমা রাখে। এরপর সুবিধামত সময়ে তারা এসব মোটরসাইকেল পৌঁছে দেয় আশিকুর রহমান ও মিলনের আস্তানায়। এরাই তৈরি করে জাল কাগজপত্র।
এছাড়াও অনেক সময় চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলের মালিকের কাছ থেকে টাকা দিয়ে বৈধ কাগজপত্র কিনে নেয় (১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা)। ঐ কাগজের সঙ্গে মিল রেখে সাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নাম্বার পরিবর্তন করে। এরপর তোলা হয় নির্ধারিত হাটে। আর এই কাগজপত্র তৈরি বা কেনার কাজটি করে থাকে মনিরা পারভীন। বিভিন্ন শোরুম নকল কাগজপত্রের ক্ষেত্রে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রিতে সহায়তা করে।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চোরাই মোটরসাইকেলের প্রধান হাট রয়েছে সাতক্ষীরার কাটিয়া বাজার রোড, নাজমুল সরনী, পলাশপোল প্রভৃতি স্থানে।
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, এক থেকে দেড় লাখ টাকার মোটরসাইকেল বিক্রি হয় ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গত ৬ জুলাই তিনি মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী ছাদেক ওরফে আকবরকে। তার দেয়া তথ্যমতে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তার দুই সহযোগীকে। সেসময় উদ্ধার করা হয় একটি চোরাই মোটরসাইকেল। পরে ছাদেক ও তার দুই সহযোগীর দেয়া তথ্যমতে অন্যদের গ্রেফতার করা হয়। আর উদ্ধার করা হয় ২২৫টি মোটরসাইকেল সাতক্ষীরা এলাকা থেকে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর থেকে বহু লোক (যাদের মোটরসাইকেল চুরি বা ছিনতাই হয়েছে) থানায় যোগাযোগ করছেন। তবে শনিবার পর্যন্ত কাউকে মোটরসাইকেল ফেরত দেয়া হয়নি।