গাজায় স্থল অভিযান শুরু

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে কেবল বিমান হামলা চালালেও গতকাল রবিবার ভোর থেকে ইসরাইলি নৌবাহিনীর কমান্ডোরা গাজা ভূ-খণ্ডের উত্তরাঞ্চলে স্থল অভিযানে নামে। ইসরাইল দাবি করেছে, এই অভিযান হামাস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। রবিবার ভোরে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় বেতার জানায়, হামাসের একটি রকেট উেক্ষপণের স্থান লক্ষ্য করে অভিযানটি শুরু হয়েছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা নিশ্চিত করেছে যে ইসরাইলি কমান্ডোদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের গুলি বিনিময় হয়েছে। একজন সামরিক মুখপাত্র পরে বলেন, অভিযানকালে ইসরাইলের চার সৈন্য আহত হয়েছে। ঐ রকেট উেক্ষপণের ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সেনারা। ইসরাইল দাবি করেছে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের বিদ্রোহীদের রকেট হামলা করা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছিল না। তাই স্থল হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও এএফপির। এদিকে, গাজা সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকাগুলোর লোকজনকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে ‘নির্দেশ’ দিয়ে সেখানে স্থল অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। এর ফলে লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণে বাঁচার তাগিদে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। গাজায় এ পর্যন্ত ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৫৬ জন নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ইসরাইলের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়, তাদের সেনাবাহিনী ব্যাপক সংখ্যায় এখনই গাজায় প্রবেশ করছে না। প্রথমদিকে কেবল বিশেষ বাহিনী প্রবেশ করে হামাসকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করবে। তারা যদি সক্ষম না হয় তবে সেনাবাহিনী প্রবেশ করবে। গতকালও গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। একটি হামলা চালানো হয় একটি প্রতিবন্দি কেন্দ্রে। এই হামলায় দু’জন রোগী নিহত হয়। এছাড়া হামাসের পুলিশ প্রধানের বাড়ীর ওপর এক হামলায় তার পরিবারের ১৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার তাইসের আল বাচ বেঁচে আছেন কিনা সে ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী খবর পাওয়া যাচ্ছে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর বহু মানুষ মারা গেছেন যাদের মধ্যে প্রচুর নারী, শিশু এবং বয়স্ক বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলের ওপর ফিলিস্তিনিদের ছোঁড়া রকেটে এ পর্যন্ত একজনেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইল যে ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তা বেশিরভাগ রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। এদিকে, ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোত্তি আলমোজ বলেছেন গাজায় আরো হামলা আসছে। ইসরাইল সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে হামলার তীব্রতা বেশি হবে বলে তিনি জানান। তিনি গাজাবাসীকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন। কিন্তু গাজার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার অধিবাসীদের আহ্বান করেন যেন তারা বাড়ি ছেড়ে না যায়। ইসরাইলের আহ্বান প্রত্যাখ্যান না করলে তারা প্রশ্রয় পেয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল মানসিকভাবে গাজাবাসীকে দুর্বল করে দেয়ার জন্য বাড়ি ছাড়তে বলেছে। আমরা মরলে নিজ বাড়িতে বসে মরব। তবু নিজের মাটি ছেড়ে যাব না। শান্তির আবেদন পোপের: এদিকে পোপ ফ্রান্সিস তার সাপ্তাহিক প্রার্থনায় গাজায় শান্তির আবেদন জানিয়েছেন। গাজায় ইসরাইলি প্রাণঘাতী অভিযানের দিকে পোপ ‘শান্তি স্থাপনে বাস্তবানুগ আচরণের’ আহ্বান জানান। সেন্ট পিটারস স্কোয়ারে কয়েক হাজার তীর্থযাত্রীর উদ্দেশে পোপ ফ্রান্সিস ‘গত কয়েক দিনের মর্মান্তিক ঘটনাবলী’ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এই আবেদন জানান।