মুবারক মাহে রমজান

আজ ১৫ রমজান। তৃতীয় হিজরীর রমজান মাসের ১৫ তারিখ মুতাবিক ৩ এপ্রিল ৬২৫ খৃষ্টাব্দে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রিয় নাতী হযরত ইমাম হাসান রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হু মদীনা মনওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আম্মা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হা এবং আব্বা হযরত ‘আলী করমাল্লাহু ওয়াজ্হাহু। তার নানাজান সরকারে দোআলম নূরে মুজাস্সম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর এই বড় নাতীকে খুবই আদর ও স্নেহ করতেন। সাহাবী আবু বাক্রা ছাকাফী (রাদি.) বলেছেনঃ একদিন আমি দেখলাম হযরত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম মসজিদুন নববীর মিম্বরে উপবিষ্ট রয়েছেন এবং তাঁর পার্শ্বে রয়েছেন হাসান (রাদি.)। তখন হযরত রসূলুল্লাহ (সা.) একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আর একবার হাসানের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেনঃ আমার এই সন্তান (নাতী) একজন বড় নেতা। আশা করা যায় আল্লাহ্ তাঁর দ্বারা মুসলিমদের দুটো দলের পারস্পরিক বিরোধ দূর করে মিলন ঘটাবেন। (বুখারী শরীফ)। হযরত ইমাম হাসান রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্হু-র দৈহিক গঠন এবং চেহারা নানা হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের মতোই ছিলো। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আনাস রাদি আল্লাহু তা’আলা আন্হু বলেছেনঃ হাসান অপেক্ষা রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আকৃতিতে এতো অধিক সাদৃশ্য আর কারো ছিলো না। (বুখারী শরীফ)। হযরত ইমাম হাসান (রাদি.)-এর শৈশবকাল পিতা-মাতা ও নানাজানের স্নেহ-ছায়ায় কেটেছে। তিনি বেশিরভাগ সময় নানাজানের সঙ্গে থাকতেন। মসজিদুন নববীতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম যেসব কথা-বার্তা বলতেন তার হুবহু বর্ণনা তিনি বাড়িতে এসে তাঁর আম্মাকে শুনাতেন। হযরত উসমান রাদি আল্লাহু তা’আলা আনহুর বাসভবন বিদ্রোহীদের দ্বারা আক্রান্ত হলে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন। তিনি খুবই শান্তিপ্রিয় ছিলেন। শান্তি স্থাপনের জন্য তিনি হযরত মু’আবিয়া (রাদি.)-এর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছিলেন। তিনি বেশি বেশি করে ইতিকাফ ও কা’বা শরীফ তওয়াফ করতেন। তিনি বড়মাপের কবিও ছিলেন। তিনি ৪৭ বছর বয়সে শহীদ হন। বর্তমান লেখক তাঁর পুত্র আরিফ বিল্লাহ মিঠুকে সাথে করে জান্নাতুল বাকীতে ইমাম হাসানের মাযার যিয়ারত করেছেন।