বেশিরভাগ গার্মেন্টস ঈদের আগে বেতন দিতে সম্মত
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৫
ঈদের আগে চলতি জুলাই মাসের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছে বেশিরভাগ গার্মেন্টস কারখানা। ছোট ও মাঝারি আকারের অল্প কিছু কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের বেতন-বোনাসের একটি অংশ ঈদের আগে পরিশোধ করবে। বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি গতকাল ইত্তেফাককে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বেতন-ভাতা পরিশোধে সহায়তা করার জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান।
স্বাভাবিক নিয়মে চলতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের সাত থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করা হয়। সেই হিসেবে চলতি জুলাই মাসের বেতন ঈদের পরই পরিশোধ হওয়ার কথা। কিন্তু সমপ্রতি শ্রমিক সংগঠনগুলো ঈদের আগেই চলতি মাসের বেতন পরিশোধের দাবি জানায়। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বাণিজ্য মন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ঈদের আগে সব কারখানায় চলতি জুলাই মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ঈদের আগে কোন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই না করা এবং বোনাস প্রদান নিয়েও যাতে কোন ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বিজিএমইএ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সতর্ক করেন।
এদিকে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে রপ্তানিকারকদের প্রাপ্য প্রণোদনার অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থ ছাড়ের এ আবেদন জানান।
সমপ্রতি বেতন-ভাতা নিয়ে বেশকিছু কারখানায় অসন্তোষ দেখা দেয়। গত কয়েক দিনে রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছে। গতকাল রবিবারও রাজধানীর কচুক্ষেত এলাকায় বন্ধ হওয়া দুইটি কারখানার প্রায় এক হাজার শ্রমিক বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিজিএমই ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন।
এদিকে বেতন বোনাস নিয়ে সমস্যা হতে পারে, এমন প্রায় এক হাজার কারখানার একটি তালিকা তৈরি করেছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, এসব কারখানাকে নিবিড় তদারকির মধ্যে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ও এ ধরনের কারখানা তদারকি করে থাকে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৫শ’ কারখানা এই ঝুঁকি তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে সাব-কণ্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানাই বেশি। সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।