চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৭
স্থানে স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এবং লবণ বোঝাই ট্রাক থেকে পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়ার খুটাখালী পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গত ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ২ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে জীবন-যাপন করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৫০টির অধিক ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
একাধিক সূত্র মতে, মহাসড়কের চট্টগ্রাম কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণাংশ থেকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী পর্যন্ত প্রায় ১শ’ ১৫ কিলোমিটার সড়কের ৫০টির অধিক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও ১৫টির অধিক স্থানে সড়কের ওপর হাট-বাজার রয়েছে। সড়কের পটিয়া অংশে প্রায় ২০টি, চন্দনাইশ অংশে প্রায় ১৫টি, লোহাগাড়া অংশে প্রায় ১২টি ও চকরিয়া অংশে প্রায় ১০টি পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। ফলে যানবাহনগুলোর বাঁক নেয়ার সময় বিপরীতমুখী যানবাহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া লবণ বোঝাই ট্রাকের লবণাক্ত পানিতে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে পটিয়া, লোহাগাড়া ও চকরিয়া অংশে।
পরিবহন সেক্টরের সাথে জড়িতরা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের চেয়ে মাইক্রোবাস, সিএনজি ট্যাক্সি ও মাহিন্দ্রা গাড়িগুলোতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। আরকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এতোবেশি আঁকা-বাঁকা যে, চালকদের অত্যন্ত ঝুঁঁকির মধ্যে গাড়ি চালাতে হয়। সড়কে শত শত ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটি সোজা ও প্রশস্ত হলে এবং সড়ক থেকে অবৈধ যানবাহন সরিয়ে ফেললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিপজ্জনক বাঁকসহ লবণ বোঝাই ট্রাকের কারণে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।