বোলারদের পরখ করতেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা

প্রস্তুতি ম্যাচ

স্পোর্টস রিপোর্টার

ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। পেসারদের হাত ধরে আসা দারুণ শুরুটা বিফলে গেছে স্পিনাররা বোলিংয়ে আসতেই। চাপের বাঁধন ছিঁড়ে ভারত গড়েছিল রানের পাহাড়। আবার ব্যাটিংয়ে এসে ভালো একটা ভিত পেলেও স্কোরটা বড় করতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ভারতীয় স্পিনারদের উইকেট দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেকরা। অবশ্য মঙ্গলবার কার্ডিফে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট বেশ সহযোগিতাও করেছে কুলদীপ-চাহালদের।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের এসব পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবিত নয় বাংলাদেশ। ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বোলারদের পরখ করতেই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিন কোচ সুনীল যোশি। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিরুদ্ধে বোলারদের সক্ষমতাও দেখা হয়েছে। আবার ভারতের বোলিং আক্রমণও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। তাদের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যও স্পষ্ট হয়েছে প্রস্তুতি ম্যাচে।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যবহার করেছে ৯ বোলার। আর সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার চিন্তা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে কার্ডিফে সুনীল যোশি বলেছেন, ‘এখানে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। আজকে তাই শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে আমরা বিভিন্ন কিছু চেষ্টা করতে চেয়েছি। এটি তো অনুশীলন ম্যাচ ছিল। এজন্যই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে আমাদের বোলাররা কেমন করে, সেটি দেখতে চেয়েছিলাম আমরা। আমাদের প্রায় সব বোলার বল করেছে, প্রায় সবাই ব্যাট করেছে। আমরা এটিই চেয়েছিলাম।’

ম্যাচ জেতার চেয়ে প্রস্তুতির দিকেই বাংলাদেশের নজর ছিল বেশি। জয়ের চিন্তা করলে হয়তো বোলিং, ব্যাটিংয়ে আরও সতর্ক রূপ দেখা যেত। বাংলাদেশের স্পিন কোচ বলেছেন, ‘আমরা তো শুরুটা ভালো করেছিলাম, ১০২ রানে ৪ উইকেট ছিল ওদের। তখন সাকিব আরও কয়েক ওভার বোলিং করলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। কারণ সাকিব ও রুবেল ভালো বোলিং করছিল। রাহুল ও মাহি (ধোনি) খুব ধীরে এগোচ্ছিল তখন। আমরা তখন বোলারদের পরখ করতে চেয়েছি যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কেমন করে। এরপর ওরা দুজন ভালো ব্যাট করেছে।’

বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে তথা ইনিংসের প্রথম ১০ ওভার খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। অবশ্য সম্প্রতি ওয়ানডেতে অনেক সফলতা থাকলেও বাংলাদেশ দল পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলার দিকে মনোযোগী নয়। বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় তাকালে দেখা যায়, ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতার এই সময়ে বরং উইকেট না ফেলে টিকে থেকে সতর্ক ব্যাটিংই করতে চায় বাংলাদেশ।

সুনীল যোশি বলছেন, পাওয়ার প্লে বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বড় রান করতে বা তাড়া করতে পাওয়ার প্লের সুবিধা নিতে হবে ব্যাটসম্যানদের। মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘বড় রান তাড়ায় শুরুটা খুব ভালো হতে হয়। পাওয়ার প্লে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশের উইকেটে বোলারদের কিছু করার থাকে না। পাওয়ার প্লেতে উইকেট না হারালে ৩৫০, ৩৭০, এমনকি ৪০০ রানও তাড়া করা সম্ভব।’