অতিরিক্ত পাথরবোঝাই ট্রাক চলায় রাস্তার দফারফা
মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সাংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৫
১৯৯৫ সালে নতুন করে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় এই মহাসড়ক পিচ,পাথর দিয়ে নতুন করে কার্পেটিং করা হয়। কিন্তু সংস্কারের ৬ মাস যেতে না যেতেই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত মাল বোঝাই পরিবহন চলাচল করায় মহাসড়কের এই দুরবস্থা হয়েছে বলে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সূত্র জানায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৫০ টনের বেশি পাথর ভর্তি ট্রাকসহ ভারি যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে প্রায় ৫শতাধিক ভারি যানবাহন চলাচল করার কারণে মহাসড়কে কিছু অংশ ক্রমশ দেবে যাচ্ছে। আবার কিছু অংশ ফুলে উঁচু হচ্ছে। মহাসড়কে খানাখন্দের সঙ্গে উঁচু নিচু হওয়ায় যাত্রীবাহী বাসসহ ছোট ছোট যানবাহন প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি(বিআরটিএ) রাজশাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, সর্বোচ্চ ১৫ টন মালামাল বহনের জন্য মালবাহী পরিবহন ট্রাকের অনুমতি রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসককে ম্যানেজ করে পাথর ও অতিরিক্ত মাল বোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। মহাসড়কের ক্ষতি হলেও অতিরিক্ত মাল বোঝাইকৃত পরিবহনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মোকাদ্দেম আলী বলেন, মহাসড়কের কোন ধরনের পরিবহন চলাচল করতে পারবে তা ট্রাফিক আইনে রয়েছে। আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে ট্রফিক পুলিশ। বিষয়টি দেখার জন্য ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলার রাজাবাড়ী হেলাল উদ্দীন বলেন, ২০১৩ সালে মহাসড়ক সংস্কারে নিম্নমানের পিচ ও পাথর ব্যবহার করায় এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে ঠিকাদারের লোকজন ভাল কাজ করার কথা বলে কাজ করলেও নিম্নমানের পাথর ও পিচ ব্যবহার করায় বৃষ্টির পানিতেই রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। এক পর্যায়ে মহাসড়কে পাথর উঠে যাওয়ায় গর্ত ও খানাখন্দ হচ্ছে। মহাসড়কের বালিয়াঘাট্টা, কামারপাড়া, ডাইংপাড়া, মহিশালবাড়ী, কাদিপুর, বসন্দপুর এলাকায় বেশি গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ৬ মাস আগে উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড়ে গোল চত্বর নামে মহাসড়ক খুঁড়ে নষ্ট করা হয়। পুনরায় গোল চত্বরের পাশ দিয়ে মহাসড়ক নির্মাণ করলেও সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম শামসুদ্দীন আহম্মেদ বলেন, রাজশাহী-চাঁপাই নবাবগঞ্জ মহাসড়কে খানাখন্দের বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নজরে রয়েছে। সড়ক মেরামত ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই মেরামত ও সংস্কার করা হবে।