সাতক্ষীরায় কাঁকড়া চাষে দারিদ্র্য মোচন
জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৮
উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার লবণাক্ত পানিতে কাঁকড়া চাষে ঝুঁকেছেন সেখানকার দরিদ্র মানুষেরা। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক ও ঝুঁকি কম হওয়ার কারণে এ চাষে নেমে পড়েছেন মত্স্যচাষিরা।
সাতক্ষীরার সর্বদক্ষিণে শ্যামনগর উপজেলায় সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। তাদের জীবিকার প্রধান উত্স মাছ চাষ, সুন্দর বনের কাঠ, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করা, নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরা ইত্যাদি। জোয়ার ভাটার এই অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী আইলা ও সিডরের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করেছেন। বর্তমানে এ এলাকায় কাজ না থাকায় অধিকাংশ মানুষ পাড়ি জমিয়েছেন শহরতলীতে। আর অনেকে ঝুঁকে পড়েছেন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঁকড়া চাষে ।
বাজারে বিক্রির উপযুক্ত (১৭০ গ্রাম এবং তদূর্ধ্ব) করতে অপরিপক্ব কাঁকড়াকে (পরিপুষ্ট হয়নি এমন কাঁকড়া) ২-৪ সপ্তাহ ঘেরে রেখে এদের দেহের মধ্যে কতিপয় বিশেষ জৈবিক বৈশিষ্ট্য তৈরির মাধ্যমে পরিপক্ব করাকে কাঁকড়ার ‘ফ্যাটেনিং’ বলা হয়। এই সময় কাঁকড়া খোলস পাল্টাবে না এবং কাঁকড়ার বৃদ্ধিও হবে না। শুধুমাত্র কাঁকড়া পরিপুষ্ট হবে। এগুলোকে ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ঘেরে রেখে পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয় যাতে এগুলো পরিপক্ব হয়। এই পরিপক্ব কাঁকড়ার চাহিদা ও মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেশি। তবে ১০-১২ দিনের মাথায় কাঁকড়া মোটাতাজা হলে তাও বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতিমাসে দুইবার কাঁকড়া বাজারে বিক্রি করা সম্ভব । আর মাসে দুইবারে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মাত্র ৯,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিমাসে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
এক শতাংশ জমিতে এই কাজটি করতে বাঁশ, পাটা, জাল, জালতি, পিডি এবং কাঁকড়াসহ প্রাথমিকভাবে খরচ হয় ৯ হাজার টাকা। এই কাজটি করতে একজন উদ্যোক্তার প্রতিদিন ১-২ ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয়। ঘেরে কাঁকড়া ছাড়া হয় ঘিলু বিহীন অবস্থায়। খাদ্য দেয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে ঘিলু চলে আসে কাঁকড়াগুলোতে। আগে যারা চিংড়ি চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব গরীব মত্স্যচাষিদের দাবি- সরকার তাদের আর্থিক সহায়তা দিলে তারা কাঁকড়া চাষ করে আরো বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
কাঁকড়া চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে কাঁকড়া চাষ করতে এক বছরে তাদের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের লাভ থাকে সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
শ্যামনগর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, শ্যামনগর উপজেলায় প্রায় ৫০০ জনের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষি কাঁকড়া চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। এখান থেকে বছরে এক হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করা হয়। যা থেকে সরকার প্রায় একশ’ থেকে দেড়শ’ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। তবে এ এলাকায় একটি কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা তৈরি ও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এ শিল্পের বিশাল প্রসার ঘটবে।