গাজায় হামলার নিন্দা জানাল মন্ত্রিসভা

ফিলিস্তিনির গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের নির্বিচারে হামলায় নারী ও শিশুসহ অসংখ্য ফিলিস্তিন নাগরিক হত্যার ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে এ হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলকে চাপ দিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এজেন্ডার বাইরে অনির্ধারিত আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে গাজায় ইসরাইলীদের এ ধরনের হামলা খুবই দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মন্ত্রিসভা এ হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন আছে এবং থাকবে। বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অন্য অনেকের মতো তিনিও রাত জেগে জামার্নি-আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছেন। মেসি গোল করতে পারলে এবং আর্জেন্টিনা বিজয়ী হলে বেশি খুশি হতেন তিনি। প্রসঙ্গত, নিজের পছন্দের দল ব্রাজিল সেমিফাইনালে বাদ পড়লেও বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলায় প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন ছিল আর্জেন্টিনার প্রতি। ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণী সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সমুদ্রসীমার রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। তবে ওই সাংবাদিক সম্মেলন কবে, কখন অনুষ্ঠিত হবে তা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ের বিষয়টি সরকারি গেজেট হিসেবে প্রকাশের প্রস্তাব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত বিরোধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায় বাংলাদেশের অনুকূলে হওয়ায় এই বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে মন্ত্রিসভায় একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। রায়ে সমুদ্রে যে এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে, সেখান থেকে সম্পদ আহরণের সর্বোচ্চ সমন্বিত প্রচেষ্টা নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, এর সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এছাড়া মন্ত্রিসভায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে বোর্ড (রহিতকরণ) আইন-২০১৪’র খসড়া এবং বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে বোর্ড (রহিতকরণ) আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সামরিক শাসনামলে জারি করা ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে বোর্ড অর্ডিনেন্স’কে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। আইনটি এখন বাংলায় হবে। তিনি বলেন, এ আইনের ফলে বর্তমানে যে কাঠামোতে রেল পরিচালিত হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি আরো জোরদার হবে। গত ২২-২৫ এপ্রিল নেদারল্যান্ডের হেগে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ওসানস এ্যাকশন সামিট ফর ফুড সিকিউরিটি এ্যান্ড ব্লু গ্রোথ’ সম্মেলন, ১০-১৩ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সামিট টু এন্ড সেক্সচুয়াল ভায়লেন্স ইন কনফ্লিক্ট: লন্ডন’ শীর্ষক বৈশ্বিক শীর্ষ সম্মেলন এবং ১৮-১৯ জুন সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের ৪১তম কাউন্সিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করার প্রস্তাব দেয়া হলেও সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অবহিতকরণের লিখিত বিষয়বস্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু তাতে স্পিকারের অনুমোদন না থাকায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে অন্য বক্তাদের বক্তব্য আগে অনুমোদন থাকতে হয় সম্প্রতি শেষ হওয়া ডিসি সম্মেলন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি থাকবেন সেখানে অন্য বক্তাদের বক্তব্যের লিখিত কপি আগে থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। অথচ কয়েকটি পত্রিকায় ‘মন খুলে কথা বলতে পারলেন না ডিসিরা’, খালি হাতে ফিরে গেলেন ডিসিরা’, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিরা একান্ত কথা বলতে পারলেন না’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসবের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ডিসিরা কিছু নেয়ার জন্য সম্মেলনে আসেননি। সম্মেলনে ডিসিরা প্রস্তাব দেন আর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দিক-নির্দেশনা দেয়। সম্মেলনে কথা হয়েছে উন্মুক্ত, আর এটাই নিয়ম।