গাজায় সাত দিন ধরে টানা হামলা ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে গাজায় ইসরাইলি হামলা চলছেই। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল সপ্তম দিন পর্যন্ত টানা বোমাবর্ষণ চলেছে। হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৮০ ছাড়িয়ে গেছে। গতকালও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রবিবার রাতে গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দিয়ার এল বালায় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, মিসর সীমান্তে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এবং খান ইউনিস শহরে আরো দু’জন নিহত হয়। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। জরুরি সেবা সংস্থার মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদ্রা জানান, গাজার উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়া শহরে এক বাড়িতে হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। তিনি জানান, ওই হামলার পর পরই গাজার মধ্যাঞ্চলে মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে অপর এক হামলায় এক নারী নিহত হয়। উত্তরাঞ্চলীয় বেইত হানুনে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে একব্যক্তি নিহত হয়। সেখানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, তারা গাজায় তাদের অভিযান আরো জোরদার করবে। তারা বাসিন্দাদের গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সাতদিনের হামলায় গাজায় প্রায় ১ হাজার ২৩০ জন আহত হয়েছে। ব্যাপক রক্তপাত সত্ত্বেও লড়াই বন্ধের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। গতকাল ইসরাইলের বিমান এবং নৌ বাহিনীর গানবোট থেকে গাজার দুই শতাধিক লক্ষবস্তুতে হামলা চলেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়। দু’বছরের মধ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা। গাজার ইসলামপন্থি হামাস যোদ্ধারা গাজা থেকে প্রায় ১ হাজারটি রকেট ছুড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। সোমবার সকালে ইসরাইল আসদোদ এর কাছে একটি ফিলিস্তিনি চালক বিহীন বিমান (ড্রোন) ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলা হওয়ার খবর এটিই প্রথম। হামাস জানায়, ইসরাইলের অনেক ভেতরে বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য তাদের সশস্ত্র শাখা কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়েছে। খবরটি নিশ্চিত হলে তা হামাসের অস্ত্রের আধুনিকায়নে একধাপ অগ্রগতিরই ইঙ্গিত। ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি দিয়ে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন রবিবার ইসরাইলকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি করার আহ্বান জানিয়ে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে বলেছেন। উল্লেখ্য, তিনজন ইসরাইলি কিশোর অপহূত ও পরে নিহত হওয়ার ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এরই মধ্যে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে পুড়িয়ে মারার পর পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে গাজা অঞ্চল থেকে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে অভিযোগ তুলে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। বৈঠকে বসছে আরব লীগ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলা সম্পর্কে আলোচনার জন্য বৈঠকে বসার ঘোষণা দিয়েছেন আরব লীগের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা। সংঘাত বন্ধে ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মধ্যে আরব লীগের এ বৈঠক হচ্ছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলের হামলা বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ সময় ১৯ টায় বৈঠক শুরু হবার কথা। বৈঠকের লক্ষ্য ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকদের রক্তক্ষয় বন্ধের উপায় খোঁজা এবং এ ব্যাপারে অভিন্ন আরব অবস্থান ঠিক করা।