নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে আলোচনা সম্ভব :রুহানি

বিবিসি ও রয়টার্স

ওয়াশিংটন যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরমাণু চুক্তির আওতাধীন প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব হতে পারে— এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেস টিভিতে বুধবার তিনি এ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে রুহানি বলেন, যখনই তারা অন্যায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবে, তাদের নিজেদের ছেড়ে যাওয়া আলোচনার টেবিলে ফেরত আসবে, তখনই আলোচনা হবে। আলোচনার দরজা বন্ধ নয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের জনগণ তোমাদেরকে কথা নয়, কাজ দিয়ে বিচার করবে।’

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর থেকে ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দিন দিন উত্তেজনা বাড়ছে। এরই মধ্যে জাপান সফরে এসে সোমবার ট্রাম্প বলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চুক্তি সম্ভব। তবে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

এদিকে চলতি মাসের প্রথমদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকারসহ যে চারটি জাহাজে হামলা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে ইরানের পক্ষ থেকেই করা হয়েছে।’ গত ১২ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় ওমান সাগর উপকূলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যে পাঁচ দেশের সদস্য এই হামলার তদন্ত করছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরাও তার অংশ হিসেবে কাজ করছে।