আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়

‘আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’ ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা সূতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে এক কালের প্রমত্তা গাজীখালী নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হয় সবুজ বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়ায় নয়নাভিরাম পরিবেশে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টির পথচলা। আজও এগিয়ে চলেছে সুনামের সাথে। নওগাঁয়ের কৃতি সন্তান, সফল ব্যবসায়ী, বিদ্যানুরাগী প্রয়াত আশরাফ চৌধুরী আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি আজ আর নেই। বিদ্যলয়টির হাল এখন প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতাপত্নী আসমা সুলতানার হাতে। আমি রোকসানা আক্তার ‘আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’ এর দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্রী। এতে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ জন। আমাদের বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে একটি বড় খেলার মাঠ। এই বিদ্যাপিঠটি ধামরাই উপজেলার একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল সন্তোষজনক। পাঠ আদান প্রদান, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধূলা, শরীরচর্চা সহ সবকিছুতেই শিক্ষকবৃন্দ আমাদের প্রতি আন্তরিক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি চলে নানা প্রকার আচার অনুষ্ঠান। আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যায়টি শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য আধার। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রতিষ্ঠাতার পত্নী আসমা সুলতানা, কো-অপ্ট সদস্য বিদ্যানুরাগী মো. জাকির হোসেন, সদস্য খোরশেদ আলম সহ অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক, সম্মানিত অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় বিদ্যাপীঠটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলানের জন্য সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব বেনজীর আহমদ সরকারী অর্থায়নে চারতলা ভিত্তির উপর একটি একতলা ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। আমাদের আরও শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র প্রয়োজন। বিজ্ঞানাগারটি আরও সুসজ্জিত হওয়া প্রয়োজন। আমাদের বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে বেশ খানিকটা নিচু জায়গা বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করার জন্য বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। চারপাশে অফুরন্ত সবুজের সমারোহ ও গ্রামীন নিরবতার মাঝে অবস্থিত ‘আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’ আমার প্রিয় বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যাপীঠে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। এখান থেকে সু-শিক্ষা গ্রহণ করে, সু-নাগরিক হয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। আমরা সবার প্রচেষ্টায় গড়ে তুলবো মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ।