স্মৃতির টানে ক্যাম্পাসের পানে
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৯
সাবেক হয়ে গেছি অনেকদিন যাবত্ই। তবু সময়-সুযোগ পেলে ছোট্ট অবসরে ছুটে যাই প্রাণের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক ব্যস্ততার ফাঁকে কোনো এক বিষণ্ন বিকেলও এই সবুজের সমারোহে পা রাখা মাত্রই রঙিন হয়ে ওঠে। হঠাত্ করে সেদিন বন্ধু নাহার বললো ‘চল ক্যাম্পাসে যাই’। শোনামাত্র সানন্দে রাজি হলাম। বহুদিন পর আবারো এক হলাম আনন্দ বেদনার বহু স্মৃতিঘেরা ট্রান্সপোর্ট বাধন চত্বরে।
একে একে আড্ডায় যোগ দিলো ব্যাংকার বন্ধু মিলন, ভার্সিটি মাস্টার মর্জিনা ও বিপ্লব, ইসলামনগর সিটির স্বঘোষিত মেয়র (!) ওয়ালি, জহুরুল, একসময়ের সাংবাদিক বন্ধু পলাশ মাহমুদ, জয়নাল, রুয়েটের জুনিয়র বন্ধু সাথী। পরে এসে যোগ দিলো বন্ধু মিন্টু ও জনি। একটু পরে আড্ডার জায়গা বাধন চত্বর থেকে চৌরঙ্গীতে স্থানান্তর হলো। আড্ডায় বহুদিন পর আমরা স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসলাম। বন্ধুরা কে কোথায় কি করছে এসব খবরের পাশাপাশি পুরোনো বহু স্মৃতি আবার আমাদের সুখের সময় ফিরিয়ে দিচ্ছিলো। এর ফাঁকে চললো আম ভর্তা, আনারস খাওয়া। আমাদের স্মৃতিচারণে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত সব ঘটনাই উঠে আসলো। হাসি আনন্দ বেদনা ঘটনা দুর্ঘটনা কোনো কিছুই বাদ গেলো না। আর বন্ধুদের পুরনো খোঁচাখুঁচিতো চললোই। প্রেম, বিয়ে, ছ্যাঁকা, বড়ভাইদের বিশেষ নজর, সবুজের প্রেমচেষ্টা, জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে মিলনের উপদেশমালা ও হলের সমাস-ভাবসমপ্রসারণ শেখানো, হল লাইফের উন্মাদনা, ওয়ারি বটেশ্বর ফিল্ডওয়ার্ককালে মিজানের ক্যামেরায় ওয়ালির আলোকচিত্র ধারণ কিংবা আমাদের নায়ক জসিম ওরফে শুভর কাণ্ডকীর্তি বাদ গেলো না কিছুই। স্মৃতিচারণে আসলো জায়েদ-সেলিনা ও দীপ-মিতুর প্রেম-বিয়ে প্রসঙ্গও। বাদ পড়লো না একেবারে প্রথমবর্ষের সিআর নির্বাচন থেকে সার্ক ট্যুরের ব্যর্থতাও। উঠে আসলো আমার সাথে ক্যারিয়ার বন্ধু রাজীবের বিশা...ল খোঁচাখুঁচির দিনগুলোও। যা বন্ধু রাকীবের ভাষায় ‘টম-জেরির’ লড়াই হিসেবে বিবেচিত।
এরমধ্যে একরাশ বিষাদের রঙ ছড়িয়ে দিলো বন্ধু তনার অকাল বিদায়। সকাল, দুপুর গড়িয়ে গেলো কথায় কথায়। আমাদের আড্ডা পরিসমাপ্তির সময় হলে আবারো ফিরলাম যার যার ঠিকানায়। ফেরার সময় খুব কাছের বড়ভাই (এখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক) মিজানুর রহমান জামী ভাইয়ের সৌজন্যে তাল শাঁস খেলাম। সবার বিষণ্ন মনে মান্না দে’র সুর তুলছিলো হয়তো এভাবেই: “কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই”।