১৯৮৩: চমকে দিয়ে ভারতের বিশ্বজয়

 

নাটকীয়তা দিয়েই শুরু হলো ক্যারি পেকার উত্তর ওয়ানডে বিশ্বকাপের যাত্রা। নাটকীয়তা বললে কম বলা হয়। ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচেই দুই হট ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিলো যথাক্রমে দুই আউট সাইডার জিম্বাবুয়ে ও ভারত। বলা যায়, ১৯৮৩ বিশ্বকাপের নাটকীয়তার এই শুরু। একেবারে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত এই ‘অঘটনপর্ব’ চলেছে। ইংল্যান্ডে টানা তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই বিশ্বকাপ দল সংখ্যার দিক থেকে প্রথম দুটির মতোই ছিল। তবে ফরম্যাট ও আইন কানুনে বেশ নতুনত্ব যোগ হলো। এবার দুই গ্রুপের চারটি করে দল পরস্পরের সঙ্গে গ্রুপপর্বে দুইবার করে খেললো। সেই সঙ্গে অন্তত একটি ভেন্যুতে ৩০ গজ সার্কেল চালু করা হলো এবং প্রথমবারের মতো টেস্ট ভেন্যুর বাইরে পা রাখলো ওয়ানডে বিশ্বকাপ। খেলা শুরু হতেই আবিষ্কার হল, চমকের পর্বটা আসলে খেলার মাঠেই অপেক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়াকে জিম্বাবুয়ে প্রথম ম্যাচ হারানোর ভেতর দিয়ে দলটির অনেকটা বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিলো; শেষ পর্যন্ত প্রথম পর্ব পার হতে পারলো অস্ট্রেলিয়া। আর ভারত গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে চলে গেলো সেমিফাইনালে। গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জীবনমরণ ম্যাচে অধিনায়ক কপিল দেবের অবিশ্বাস্য এক ১৭৫ রানের ইনিংস ভারতকে টেনে তুললো।

আর ফাইনাল দেখলো বিশ্বকাপ ইতিহাসের তখন পর্যন্ত সবচেয়ে অকল্পনীয় ঘটনা ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরে গেলো ভারতের কাছে; বলা ভালো হেরে গেল তারা মদনলাল ও মহিন্দর অমরনাথের বিস্ময়কর বোলিংয়ের কাছে। এই বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানরা দারুণভাবে ফিরে এলেন। আগের বিশ্বকাপের ২টি সেঞ্চুরির তুলনায় এবার সেঞ্চুরি হল ৮টি; যদিও ম্যাচ বেড়েছিল। ৮টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ১৪টি ৮০ রান পার করা ইনিংস দেখলো বিশ্বকাপ!