শেখ জামাল পেশাদার ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৩
দুই ম্যাচ হাতে রেখেই নিটল টাটা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ জিতলো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী লিমিটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েই প্রত্যাশা অনুযায়ীই শিরোপা নিশ্চিত করে বড় বাজেটের দলটি। এটি তাদের দ্বিতীয়বারের মতো পেশাদার ফুটবল লিগের শিরোপা জয়। এর আগে ২০১০-১১ মৌসুমে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। এ জয়ে শেখ জামাল ২৫ খেলায় ৫৮ পয়েন্ট পেয়ে অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেল। সমানসংখ্যক খেলায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনী তাদের চাইতে ১২ পয়েন্ট পেছনে থাকলো।
শেখ জামাল দফায় দফায় গোলের সুযোগ পেলেও এদিন জয়ের জন্য তাদের ৭১ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওয়েডসন আনসেলমের ২০ গজ দূর থেকে নেয়া শটে খেলার বন্ধাত্ব ঘুচে। শিরোপা জয়ের জন্য কাল শেখ জামালের দরকার ছিল কেবল এক পয়েন্ট। কিন্তু প্রথমার্ধেই মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম, ঘানার ফরোয়ার্ড ওসে মরিসন এমনকি ওয়েডসনও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ডার্লিংটনের জোগান থেকে তীব্র শটে বলটি জালে জড়িয়ে দেন ওয়েডসন। আবাহনী সমতা ফেরানোর সম্ভাবনা জাগালেও পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড সোয়ারেসের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম খেলা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দশ বারোমাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের অনেক ভালো সময় খারাপ সময় গেছে। খারপ সময় পার করে ভালো সময়ে ফিরেছি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আবাহনীকে হারিয়ে আমরা শিরোপা জিতেছি। এটার আনন্দই, মজাই আলাদা। আমি আরো বেশি হ্যাপি ২০১০ সালে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে শেখ জামালকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। এবারও আমি তাদেরকে শিরোপ এনে দিলাম। আগেরবার আমি শেখ জামালের সাধারণ একজন খেলোয়াড় ছিলাম। কিন্তু এবার আমি অধিনায়ক হয়ে ক্লাবকে ট্রফি জিতলাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘এবারের শিরোপা জয়ে আমরা খুব আনন্দিত। কারণ আমরা এখনও ১২ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করেছি। এটা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে রেকর্ড। এর আগে কেউই রানার্স আপ দল থেকে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শিরোপ জিততে পারেনি। লিগের ইতিহাসে এত বেশি পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শিরোপা জয় আর নেই। এটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। ফুটবলপ্রেমিরা এটা মনে রাখবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আবাহনী-মোহামেডানের হয়ে খেলার স্বাদই আলাদা। কারণ সমর্থকদের কারণে তারা সব সময়ই এগিয়ে। তাদের হয়ে খেললে হাজার হাজার সার্পোটার থাকে। এটা একটা বাড়তি অনুভূতি।’ শেখ জামালের জার্সি গায়ে খেলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা ভিন্ন অনুভূতি। কারণ ক্লাবের সুন্দর মাঠ। সেরকম সুন্দর মাঠ কোন ক্লাবের নেই। সেই মাঠে খেলা। ক্লাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। সুন্দর পেমেন্টের ব্যবস্থা। নির্দিষ্টভাবে কোন খেলায় জিতলে আলাদা করে বোনাসের ব্যবস্থা। যেটা অন্য কোন ক্লাবে নেই। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা একজন খেলোয়াড় যে অর্থ আয় করেন শেখ জামালে ম্যাচ জয়ের পর প্রতিটি খেলোয়াড়কে যে বোনাস দেয়া হয় তা এর চেয়েও ঢের বেশি। তাছাড়া আমাদের ক্লাবের যারা খেলছেন তারা অন্য দলের খেলোয়াড়দের চেয়ে বেশি অর্থ পেয়ে থাকেন। এজন্য খেলোয়াড়দের মেন্টাল প্রিপারেশন বেশি।’ শেখ জামালের এ জয়ের পেছনে ক্লাব সভাপতি মঞ্জুরুল কাদেরের ভূমিকারও প্রশংসা করেন অধিনায়ক মামুনুল।