যশোর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

রিয়াদ হত্যার ঘটনায় মামলা, চার ছাত্র বহিষ্কার

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অন্তর্দ্বন্দ্বে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেছেন নিহত ছাত্রের মামা রফিকুল ইসলাম রাজু। এজাহারে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানসহ অজ্ঞাত আসামিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্র নিহতের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য যবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি, সম্পাদকসহ ৪ ছাত্রকে বহিষ্কার এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ছাত্রলীগের ইফতার পার্টির আয়োজনে না যাওয়ার জের ধরে সোমবার দুপুরে রিয়াদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। সে ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে। যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই মরদেহ রিয়াদের নানা বাড়ি খুলনার লবণচরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল সকালে সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। চার ছাত্র বহিষ্কার : বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও ফিশারিজ বিভাগের ছাত্র সুব্রত কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ছাত্র শামীম হাসান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ফয়সাল তানভীর ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আজিজুল ইসলাম। এছাড়া ঘটনার তদন্তে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইকবাল কবির জাহিদকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সার্বিক বিষয় নিয়ে রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, ৪ ছাত্র বহিষ্কার ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের অনুমোদন করা হয়েছে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্র-ছাত্রীরা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা নিয়েই ক্যাম্পাস ছাড়ছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার রাতেই অনেক ছাত্র ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছে। বাকিরা মঙ্গলবার সকালে হল ত্যাগ করেছেন। ‘রিয়াদ খুনে ছাত্রলীগ জড়িত নয়’ : রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় যশোর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান দাবি করেছেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি ধ্বংস করতে বিএনপি-জামায়াত-শিবির চক্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা এ হত্যার বিচার দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে তাদের বহিষ্কার করেছে বলেও দাবি করেন ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা।