চড়া দামেও মিলছে না বাসের টিকিট

চড়া দামেও মিলছে না বাসের কাঙ্ক্ষিত টিকিট। নন এসি ও সাধারণ বাসের দু’একটা টিকিট থাকলেও নেই ভিআইপি এসি বাসের কোন টিকিট। অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথমদিনে কিছু কোম্পানি এসি বাসের টিকিট বিক্রি করলেও গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনেই তা শেষ। যেসব টিকিট অবিক্রিত রয়েছে তার বেশিরভাগই বাসের পেছনের দিকের। গতকাল টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট দিতে দেরি করাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিকিট কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারীরা। বাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, এবার যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনেই প্রচুর টিকিট বিক্রি হয়েছে। এদিকে, বিক্রি শুরু না হতে শেষ হয়েছে লঞ্চের টিকিট। অবৈধ ট্রাভেল সিন্ডিকেট আর এক শ্রেণীর কালোবাজারীদের হাতে চলে গেছে লঞ্চের টিকিট। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সোমবার সকাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ২৩ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের ঈদের অগ্রিম টিকিট দেয়া হচ্ছে। গাবতলী টার্মিনাল কেন্দ্রিক বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির হিড়িক পড়ে। তবে মহাখালী টার্মিনালে অগ্রিম টিকিটের চাহিদা থাকলেও কোনো কাউন্টার থেকেই অগ্রিম টিকিট দেয়া হচ্ছে না। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও হাতেগোনা কিছু টিকিট বিক্রি করেছে বড় বাস কোম্পানিগুলো। রাফিউল হাসান রাফিন, নুজহাত শেহরিন আফরাহ ও মেরিনা সুলতানা খুলনায় যাওয়ার জন্য ২৭ জুলাই রাতের টিকিট কিনতে এসে ফিরে গেছেন। শ্যামলী-কল্যাণপুর-গাবতলী সংশ্লিষ্ট রুটের বাসগুলোয় ওই দিনের রাতে কোন টিকিট নেই বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। তারা ইত্তেফাককে জানান, অতিরিক্ত দাম দিতে চাইলেও টিকিট নেই বলছে টিকিট বিক্রেতারা। হানিফ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গগামী প্রায় সব রুটের অগ্রিম টিকিটের ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন যেসব বাকি আছে তা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। দক্ষিণবঙ্গগামী এস আর পরিবহন থেকে বলা হয়, অগ্রিম টিকিট ছাড়ার প্রথম দিনেই ৮৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এখন পেছনের দিকে কিছু টিকিট অবিক্রিত রয়েছে। টিকিট বিক্রি শেষ পর্যায়ে দাবি করেছে সোহাগ পরিবহনও। টিকিট না পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়াও নেয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসগুলোতে টিকিটের দাম বেড়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের রুটে চেয়ার কোচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। রাজধানীর শ্যামলী ইয়োলো লাইনের বাস কাউন্টারে ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিকিটের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে চড়া মূল্য নেয়া হচ্ছে। একধাপে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮০০ টাকা। তাই ১২০০ টাকার এসি বাসের টিকিট কিনেছি দুই হাজার টাকায়। ঈদ সামনে রেখে লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সদুত্তর নেই ওই মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে। দাম জিজ্ঞেস করলে এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা ১৮০০ টাকা নিচ্ছি। তাও টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। দাম বৃদ্ধির কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে আসন সংখ্যা ২৭টি। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার সময় পুরো আসনে যাত্রী থাকবেন। কিন্তু ফেরার পথে কোনো যাত্রী থাকবেন না। তাই টিকিটের দাম না বাড়িয়ে তাদের কোনো উপায় নেই। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসেও। বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও পঞ্চগড়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটেরও দাম বাড়িয়েছে আগমনী এক্সপ্রেস, এস আর ট্রাভেলস ও হানিফ পরিবহন। স্বাভাবিক সময়ে এসি বাসের একটি টিকিটের দাম ছিল ৮০০ টাকা। ঈদের জন্য ৫০০ টাকা বাড়িয়ে সেটি এক হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে। খুলনাগামী একে ট্রাভেলস পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ২৩ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ৯০০ টাকায়। কিন্তু ২৪ জুলাইয়ের একটি টিকিটের দাম ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। একদিনে ভাড়া বেড়েছে ৪০০ টাকা। ওই বাসের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা জানান, ২৪ জুলাই থেকে বাসের ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দিন হিসাবে ধরা হয়েছে। যে কারণে ওই দিন থেকে টিকিটের দাম বেশি রাখা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চেয়ার কোচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে দেড় থেকে ২০০ টাকা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীয়া রুটে ৪৫০ টাকার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ৬৩০ টাকায়। খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর রুটে টিকিটপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৭০ টাকা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় হানিফ পরিবহনের বাসের টিকিট মূল্য ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০০ টাকা। তবে সব পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, মালিক সমিতির নির্ধারিত মূল্যে তারা টিকিট বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যাত্রীদের হয়রানি করা যাবে না। কোন বাস কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাড়া নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিক্রির আগেই উধাও লঞ্চের টিকিট ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে অবৈধ ট্রাভেল সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা ইতিমধ্যে লঞ্চের টিকিটের বড় অংশ কিনে নিয়েছেন। ওই সব টিকিট তারা অতিরিক্ত অর্থে বিক্রি করছেন। ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট দেয়া শুরু হবে ২০ জুলাই থেকে। বেসরকারি লঞ্চ মালিকেরা ২৪ জুলাই থেকে স্পেশাল সার্ভিস চালু করবেন। ইতিমধ্যে অগ্রিম টিকিটের জন্য স্লিপ নেয়া শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে অগ্রিম টিকিটের সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ যাত্রীরা। সরকারি যাত্রী পরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি মঙ্গলবার পর্যন্ত স্পেশাল সার্ভিসের সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এদিকে ঈদে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে আগাম টিকিট কেনা যাবে। এর মধ্যে ২০ জুলাই পাওয়া যাবে ২৪ জুলাইয়ের টিকিট, ২১ জুলাই ২৫ জুলাইয়ের, ২২ জুলাই ২৬ জুলাইয়ের, ২৩ জুলাই ২৭ জুলাইয়ের এবং ২৪ তারিখে ২৮ জুলাইয়ের টিকিট দেয়া হবে। একজন সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এছাড়া ২৭ জুলাই থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে।