মির্জাপুরে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসে গ্রাহক হয়রানি

মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, গোড়াই, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ও আনাইতারা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ২২৩টি গ্রামের প্রায় ৫৮ হাজার গ্রাহকের নামে অতিরিক্ত বিল দিয়ে মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুত্ জোনাল অফিস কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একটি চক্র পুরাতন মিটার রিকানেকশন, নতুন মিটার, নতুন লাইন নির্মাণ, নতুন খুঁটি, খুঁটি স্থানান্তর, ট্রান্সফরমার বিকল, লোড আনলোডসহ বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। পল্লী বিদ্যুত্ অফিসের দুর্নীতিবাজ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট করে গ্রাহকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক এ টাকা আদায় করছে। এ নিয়ে কেউ কথা বললে তাদের মিটার কেটে নেয়াসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়। বরাটি গ্রামের মাঝারি শিল্পের মালিক আবু সাইদ বলেন, রিকানেকশনের জন্য তিনি আবেদন করলে ওয়্যারিং পরিদর্শক এবং বিলিং সুপারভাইজারসহ (বিএস) সিন্ডিকেট চক্রকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় তার নামে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে হয়রানি করছে। তার মত শত শত গ্রাহকের এ অভিযোগ রয়েছে। মহেড়া গ্রামের জসিমকে গত মাসে বিল দেয়া হয়েছিল ৫৫০ টাকা। এ মাসে বিল দেয়া হয়েছে ৯৫০ টাকা। গোড়াই এলাকার শরীফকে গত মাসে বিল দেয়া হয়েছিল ৪ হাজার টাকা। এ মাসে তার নামে বিল দেয়া হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। বিলের সাথে মিটার রিডিংয়ের কোনো মিল নেই। মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ডিএইচএম ওয়াহেদুজ্জামান জানান, বিদ্যুত্ সরবরাহ আগের চেয়ে ভাল হয়েছে এবং বিদ্যুত্ ব্যবহারও বাড়ছে। ফলে তাদের বিল বেশি হয়েছে। তবে জুন মাসের ক্লোজিং এবং সিস্টেম লস কাটিয়ে তুলতে কিছু কিছু বিলে ভুল হতে পারে। তবে এ ধরনের বিল পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে দেয়া হবে।