রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (রামেবি) বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একজন শিক্ষক একাধিক বিষয়ের প্রশ্ন সেটের পাশাপাশি ৩টি বিষয়ের মডারেশনও করেছেন। আবার মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় একই শিক্ষক একদিনে একসঙ্গে দু’টি বিষয়ের পরীক্ষা নিয়েছেন। এতে করে প্রশ্নের মান এবং গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি বরং সাজেশনের নামে প্রশ্নপত্র বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মো. দেলোয়ার হোসেন নামের একজন শিক্ষক প্রশ্নপত্র প্রণয়নে গুরুতর অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ইউজিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ১৬টি নার্সিং কলেজ এবং ২টি হেলথ টেকনোলজির প্রায় আড়াইশ শিক্ষক থাকলেও রামেবির ভিসি বিশেষ উদ্দেশ্যে পছন্দের কিছু শিক্ষককে প্রশ্ন সেটার, মডারেটর, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পরীক্ষক এবং ভিজিলেন্স টিমের সদস্য করেছেন। কোন নিয়ম-নীতি ছাড়াই একজন শিক্ষককে একই বিষয়ের সেটার-মডারেটরসহ একাধিক বিষয়ের সেটার ও মডারেটর বানিয়েছেন। ফলে প্রশ্নের মানের অবনতিসহ সাজেশনের নামে প্রশ্নপত্র বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া একজন শিক্ষককে একসঙ্গে দু’টি বিষয়ের মৌখিক ও ব্যবহারিকের পরীক্ষক করায় পরীক্ষার নামে প্রহসন করা হয়েছে।
এ নিয়ে পরীক্ষার আগেই রাজশাহী নার্সিং কলেজের বঞ্চিত শিক্ষকরা রামেবির উপাচার্য ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এরপর তাদের নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সভা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথমবার অনুষ্ঠিতব্য ২০১৮ সালের নার্সিং পরীক্ষায় একজন নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ফিজিওলজি বিষয়ের প্রশ্ন সেটার এবং ফিজিওলজি, সোসিওলজি ও ফান্ডামেন্টাল নার্সিংসহ ৩টি বিষয়ের মডারেটর ছিলেন। আরেকজন নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ফিজিওলজি ও নিউট্রিশন বিষয়ের প্রশ্ন সেটার এবং নিউট্রিশনসহ আরেকটি বিষয়ের মডারেটর ছিলেন। এছাড়া ইংরেজি, আইসিটি, সোসিওলজি, মনোবিজ্ঞান, এনাটমি ও নিউট্রিশন বিষয়েও যারা প্রশ্ন সেটার তারাই ছিলেন মডারেটর।
জানতে চাইলে রামেবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএমএ হুরাইরা পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি আপত্তি করলেও পরীক্ষা কমিটি, ডিন ও ভিসি তা মানেননি। কোন আইনে তারা এসব করেছেন, তা বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক মাসুম হাবিব পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।