লোকসভা নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ শপথ পাঠ করাবেন। আজই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে শপথ নিতে পারেন কয়েকজন মন্ত্রীও। যদিও নতুন মন্ত্রিসভায় কে কে থাকছেন সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিকাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন বা বিম?সটেক-ভুক্ত দেশের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া আরো কয়েকটি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা থাকবেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। গতকাল বুধবারই তিনি নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। এদিকে নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সভাপতি রাহুল গান্ধী। তবে শেষ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
শপথ ঘিরে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত একক বড় অনুষ্ঠানের নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনের চত্বরে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬ হাজার অতিথি যোগ দেবেন বলে জানা যাচ্ছে।
মোদির শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিমসটেকভুক্ত দেশ- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং থাইল্যান্ডের বিশেষ দূত গ্রিসাদা বুনরাচ। এছাড়া কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবায় জিবকভ, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ কুমার যুগনাথ-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনধিরাও উপস্থিত থাকবেন। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীদলীয় নেতা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নরদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী ও ইউপিএ জোটের প্রধান সোনিয়া গান্ধী শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
না যাওয়ার জন্য মাফ চাইলেন মমতা
শেষ পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। যদিও গত মঙ্গলবার মমতা জানিয়েছিলেন, মোদির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চেষ্টা করবেন। গতকাল টুইটারে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমি দুঃখিত, আমাকে বাধ্য করা হলো অনুষ্ঠানে না যেতে। দয়া করে আমাকে মাফ করবেন। এদিকে, বুধবার নয়াদিল্লিতে আরো একজন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বীরভূমের লাভপুরের তৃণমূল এমএলএ মনিরুল ইসলাম। একইসঙ্গে জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি তথা সাবেক বিধায়ক গদাধর হাজরা, বীরভূম যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ আসিফ ইকবাল এবং জেলার শীর্ষ নেতা নিমাই দাসও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই যোগদানের পর তৃণমূলে আরো ভাঙনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুকুল রায়।
নতুন মন্ত্রী কারা?
বিজেপির অভ্যন্তরে গুঞ্জন রয়েছে কংগ্রেসের পারিবারিক আসন বলে পরিচিত আমেথিতে রাহুল গান্ধীকে হারানো স্মৃতি ইরানিকে এবার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হতে পারে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অনুরোধ করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল রায় এবারে মোদির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানার মতো যেসব রাজ্যে বিজেপি’র নতুন উত্থান ঘটেছে সেসব রাজ্যে মন্ত্রির সংখ্যা বাড়াতে আগ্রহী বিজেপি। এছাড়া জোটভুক্ত পার্লামেন্টারি দলের বৈঠকে শিব সেনা, জেডিইউ, এলজেপি, আকালি দল ও এআইএডিএমকে দলকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।