শ্রীপুরের ১৭ গ্রামের তাঁতপল্লী কর্মমুখর রেখেছে নারীরা

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন আদি পেশা গ্রামীণ তাঁত শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। গ্রামীণ তাঁত পরিবারের মাঝে বিরাজ করছে চরম অভাব, অনটন আর হতাশা। অধিকাংশ পরিবারের পুরুষেরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশায় ঝুঁকে পড়েছে। একমাত্র নারীরাই পৈতৃক এ আদি পেশাটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ১৭টি তাঁতপল্লী গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবারের মধ্যে দু’হাজার নারী গ্রামীণ তাঁত শিল্পে গামছা বুননের কাজ করে জীবিকানির্বাহ করছে । অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ মানুষ বাড়ি-ঘরে নেই। সবাই জীবিকা অন্বেষণে ক্ষেত-খামার, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ ভ্যান চালানোর কাজে ব্যস্ত । জোকা গ্রামের গৃহবধূ ও তাঁতশিল্পী ফরিদা বেগম, ফাতেমা বেগম ও কালিনগর গ্রামের হাজেরা বেগম জানান, পরিবারের পুরুষেরা এ পেশা ছেড়ে দিলেও তারা বংশগত পেশাকে ছাড়তে পারছেন না । তাছাড়া বাড়িতে পরিবারের ছোট-খাট কাজকর্ম সেরে অলস সময় অতিবাহিত করতে হয় এবং স্বামীদের আয়ের পাশাপাশি এ আয়ও তাদের অতিরিক্ত অর্জন। যে কারণে তারা ঘরে বসে না থেকে স্বল্প সময়ে কম পুঁজিতে গামছা বুননের কাজ করে থাকেন। এলাকার বাজারে এখনও গ্রামীণ তাঁতশিল্পের গামছার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। অধিকাংশ লোকের গামছা বুনতে কোন পুঁজিও লাগে না। পাইকাররা গ্রামে ঢুকে অগ্রীম টাকা, সুতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল প্রতিটি পরিবারকে সরবরাহ করে থাকে। মাল তৈরি হলে খরচ বাদে লাভের টাকা পরিশোধ করে তৈরি গামছা নিয়ে যায় পাইকাররা এবং পার্শ্ববর্তী বাজারে বিক্রি করে থাকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হাসানকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তাঁতশিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের খুব প্রয়োজন। সরকারি নির্দেশনা এলে অবশ্যই এদের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।