যমুনার ভাঙ্গনে ৪ গ্রাম বিলীন সহস্রাধিক পরিবার গৃহহারা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনার অব্যাহত ভাঙ্গনে তারাকান্দি-ভূঞাপুর-ঢাকা মহাসড়ক হুমকির পথে। ভাঙ্গন থেকে তারাকান্দি-ভূঞাপুর-ঢাকা মহাসড়ক রক্ষা করতে না পারলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার বিশাল এলাকা অকাল বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন দুই জেলার মানুষ। এদিকে যমুনার ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই পিংনা ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পিংনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন বলেন, ‘যমুনার করালগ্রাসে বাসুরিয়া, চর বাসুরিয়া, রাধানগর ও কুবলীবাড়ী গ্রাম বিলীন হয়েছে। উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে পিংনা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডটি। ঘর-বাড়ি, গাছপালা, গবাদিপশুসহ কয়েক হাজার একর ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। সহস্রাধিক পরিবার ঘর-বাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে উঁচু বাঁধ, সড়ক, ঈদগাহ, স্কুল মাঠ ও বারান্দায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবযাপন করছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্লোরা বিলকিস জাহান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ বছর এখনও সরকারি কোন বরাদ্দ আসেনি। তবে এক হাজার জনের একটি তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনার তীরবর্তী শামছুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়, বাসুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসুরিয়া মাদরাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ঈদগাহ, মসজিদসহ কয়েক শত ঘর-বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা যেকোন সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে। এ ব্যাপারে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, সড়ক ও নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য পাউবোতে ১১৫ কোটি টাকার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, তবে প্রকল্প আকারে পাস হয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে।