ব্রাজিল বিশ্বকাপের এ টু জেড

স্পোর্টস ডেস্ক:ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম জার্মানি ম্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের মাসব্যাপী ফুটবল যজ্ঞ। শেষ হলেও বিশ্বকাপের রেশ এতো সহজে যাওয়ার নয়। এখন পৃথিবী জুড়েই চলছে নানাভাবে বিশ্বকাপ ফিরে দেখার চেষ্টা। ইংরেজি প্রতিটি বর্ণের ভেতর দিয়ে ফিরে দেখা এই বিশ্বকাপ আয়োজন ‘এ টু জেড’— এ—(এবিজমল এশিয়া) অতলে এশিয়া : এই মহাদেশ থেকে চারটি দল অংশ নিয়েছিল ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে। আর ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম এশিয়ার সবক’টি দেশ বিশ্বকাপ থেকে ফিরেছে কোনো জয় ছাড়াই। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্বের সবক’টি ম্যাচে পরাজিত হয়ে ফিরে এসেছিল। এবারের আসরে অবশ্য এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী চার দলের মধ্যে তিনটি দল যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইরান তিনটি ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষে প্রতিটি দলেরই অবস্থান ছিল নিজ নিজ গ্রুপের তলানীতে। বি—(বাইট) কামড়ানো : ইতালীয় প্রতিপক্ষ গিওর্গিও চিয়েলিনির ঘাড়ে দাঁত ফুটিয়ে দেয়ার জন্য (কামড়ে দেয়া) বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ। ওই অপরাধের কারণে সুয়ারেজ যে শুধুমাত্র বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন তাই নয়, পরবর্তী ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও অংশ নিতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি ফুটবল সংক্রান্ত সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে চার মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে উরুগুয়ের ‘ব্যাড বয়কে’। সি—(ক্যাশ) নগদ : ঘানার খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে খেলার সময়ই তাদের অংশগ্রহণ ফি দাবি করলে দেশটির রাষ্ট্রপতি তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই লাখ লাখ ডলার নিয়ে উড়ে আসেন ব্রাসিলিয়ায়। নগদ টাকায় চুমুক দিয়ে গা গরম করা ঘানার খেলোয়াড়রা পর্তুগালের কাছে ওই ম্যাচে হেরে গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নেয়। ডি—ডিলমা (ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি) : ব্রাজিলে বিশ্বকাপের ময়দানী লড়াই চমত্কারভাবে সম্পন্ন হলেও টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অবিস্মরণীয়। এতকিছুর পরও মাঠ যখন দর্শক উপস্থিতিতে ভরে যেত তখন অনুপ্রাণিত হতেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ডিলমা রুসেফ ও ফিফা প্রধান সেপ ব¬াটার। দেশটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন খাতকে উপেক্ষা করা হলেও বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য সরকার বিনিয়োগ করেছিল ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। যে কারণে ফুসে উঠেছিল ব্রাজিলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী। ই—(এম্বারেসমেন্ট) বিব্রতকর পরিস্থিতি: নিজেদের মাটিতে ৩৯ বছর পর প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে ব্রাজিল। আর নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানদের কাছে ৭-১ ব্যবধানের হার মেনে নতুন বিশ্ব রেকর্ড বইয়ে ঢুকে যায় স্বাগতিক ব্রাজিল। এফ—(ফ্যানস) সমর্থক গোষ্ঠী : চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল দর্শক শূন্যতা। তবে ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও মাঠে কমতি ছিল না দর্শক উপস্থিতির। সারা বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীরা বিশ্বকাপ উপভোগ করার জন্য এবার ভিড় জমিয়েছিল ফুটবলের তীর্থ ভূমি ব্রাজিলে। তবে এদের মধ্যে সিংহভাগ এসেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, চিলি ও কলম্বিয়া থেকে। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া ৩২ দেশের দর্শক উপস্থিতিও ছিল উল্লে¬খ করার মত। যা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে গড় সর্বোচ্চ উপস্থিতির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান লাভ করেছে। জি—(গোল) গোলের বন্যা : টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে ছিল গোলের সমাহার। নকআউট পর্ব ছিল গোল খরার। আর কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে এত বেশি গোল হয়েছে যে গোটা টুর্নামেন্ট থেকে ৩২ দলের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৭টি। মাত্র চার গেলের জন্য সর্বোচ্চ গোলের রকর্ড ছুঁতে পারেনি এবারের বিশ্বকাপ। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টটিই এখনো পর্যন্ত সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ধরে রেখেছে। ওই আসরে সর্বমোট গোল হয়েছিল ১৭১টি। এইচ—(হ্যান্ড অব হাওয়ার্ড) হাওয়ার্ডের হাত: এক ম্যাচে ১৬টি গোল প্রতিহত করে বিশ্বকাপ রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোল রক্ষক টিম হাওয়ার্ড। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল প্রতিহতেও ওই নজীর সৃষ্টি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে মার্কিনীরা। আই—(ইনভাসিয়ন্স ) উপদ্রব: সমর্থকরা নিরাপত্তা বলয় ভেদ করেই জার্মানী বনাম ঘানার ম্যাচের দিন ঢুকে পড়েছিল মাঠে। গ্রুপ পর্বের ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়ামের মধ্যকার শেষ ষোলোর লড়াইয়েও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আর মারাকানা স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে চিলির জয়লাভের ঘটনার পর অন্তত ২০০ চিলিয়ান সমর্থক নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে মিডিয়া সেন্টারে ঢুকে পড়েছিল। জে—জেমস রড্রিগুয়েজ : অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে কলম্বিয়ার এই বাচ্চা মার্কা চেহারার খেলোয়াড়টি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ছয় গোল করে তিনি জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন বুটও। পাশাপাশি নিজ দলকে তিনি প্রথমবারের মত পৌঁছে দিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। কে—ক্লোসা: জার্মান দলের বয়স্ক এই তারকা এবারের বিশ্বকাপে ছাড়িয়ে গেছেন সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি। ১৫ গোল করে বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি এ পর্যন্ত দখল করে ছিলেন ব্রাজিলীয় তারকা রোনালদো। তবে এবারের আসরে ক্লোসা তাকে টপকে নিজের নামের পাশে লিখিয়ে নেন ১৬ গোল। ফলে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি দখল করে নেন জার্মান ওই স্ট্রাইকার। গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে গোল করার পর ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল করেন ক্লোসা। ওই ম্যাচে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে জার্মানরা। এল—(লোটো) ইতালীয় কোম্পানী: কোস্টারিকাকে স্পন্সর করেই ব্রাজিল বিশ্বকাপের নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে পাল্ল¬া দিয়ে মাইলেজ লাভ করে নিয়েছে ইতালীয় ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ে ও ইতালীর মত ডাকসাইটে দলকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোতে ওঠার পর ওই পর্বে গ্রীসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট লাভ করে কোস্টারিকা। এম—মেসি : এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত এবং শেষ দিকে এসে সমালোচিতও বটে। কিংবদন্তী এই ফুটবলার সর্বকালের সেরা কি-না, এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারতো এবারই। সেভাবেই আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত একা হাতে তুলে এনেছিলেন। কিন্তু সেমিফাইনালে তার নিষ্প্রভতার পরও আর্জেন্টিনা জয় পেলেও ফাইনালে আর বাজিটা জিততে পারেনি তারা। তারপরও বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল পেয়েছেন। যে প্রাপ্তি নিয়ে আবার সমালোচনাও শুরু হয়েছে। এন—নেইমার: ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফুটবল তারকার সবকিছু ভালভাবেই এগুচ্ছিল। শুরু থেকে চার ম্যাচে চার গোল করে তিনি ব্রাজিল দলকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার মাত্রাটি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। যে কারণে হেক্স শিরোপা জয়ের প্রহর গুনছিল স্বাগতিক সমর্থকরা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে প্রতিপক্ষ কলম্বিয়ার খেলোয়াড়ের আঘাতে মেরুদণ্ডে ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় নেইমারের। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ভিন্ন চেহারায় আবির্ভূত হয় ব্রাজিলীয় দলটি। সেমিফাইনালে নেইমার বিহীন মলিন ব্রাজিলকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে জার্মানরা। ও—(ওল্ডেস্ট) বয়স্ক: বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ফারিদ মন্ড্রাগন। জাপানের বিপক্ষে সি গ্রুপের ম্যাচ চলাকালে সাইডলাইন থেকে মাঠে নামেন ৪৩ বছর বয়সী ওই খেলোয়াড়। ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ৪-১ গোলে পরাজিত করে এশীয় চ্যাম্পিয়ন জাপানকে। পি—পেনাল্টি : ব্রাজিল বিশ্বকাপে সমতায় থাকা রেকর্ড পরিমাণ চারটি ম্যাচ নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারের মাধ্যমে। গ্রীসের বিপক্ষে টাইব্রেকারের সহায়তায় জয় নিয়ে প্রথমবারের মত কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কোস্টারিকা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচদের কাছে একই পদ্ধতিতে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয় দক্ষিণ আমেরিকার ছোট্ট দেশটি। কিউ—(কুইন কিস) রাণীর চুমো : মারিও বালেতোলি¬র গোলে ভর করে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ইতালী। পরে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, কোস্টারিকাকে হারিয়ে ইতালিকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবেন তিনি। বিনিময়ে তিনি বৃটেনের রাণীর চুমো নিতে চান। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি তার দল ইতালীকেও জিতিয়ে দিতে পারেননি, আর ইংল্যান্ডকেও উদ্ধার করতে পারেননি। আর—(রেসিফে রেইন) রেসিফের বৃষ্টি: ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রেসিফেতে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বনাম জার্মানীর মধ্যকার নির্ধারিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা। ফের আয়োজিত ম্যাচে অবশ্য জার্মানরা জয়লাভ করে। এস—স্পেন : শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্য নিয়েই ব্রাজিলে পা রেখেছিল ‘টিকিটাকা’ ফুটবলের দেশ স্পেন। চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শিরোপা জিতে নিয়েছিল তারা। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় স্প্যানিশদের। আগের বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ডাচদের রোষানলে পড়ে ৫-১ গোলের লজ্জাস্কর পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পরের ম্যাচে তারা চিলির কাছে ২-০ গোলে পরাজয় বরণ করে। টি—(টেকনোলজি) প্রযুক্তি: এবারের বিশ্বকাপে যুক্ত হয়েছে গোল লাইন প্রযুক্তি। আর ওই প্রযুক্তির সহায়তা পাওয়া প্রথম দলটি হচ্ছে ফ্রান্স। হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচে দলটি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তাটি লাভ করে। ইউ—(আন্ডার এরেস্ট) গ্রেফতার: ফুটবল ফেডারেশন ও অন্যান্য ভিআইপি অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত আসনে যাবার পথে স্থাপিত সুরক্ষাবলয় উপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকে যাবার অভিযোগে সুইস হসপিটালিটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সন্দেহভাজন আরো ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে রিওর একটি আদালত। যদিও কোনো অনৈতিক কাজ করেননি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। ভি—ভ্যানিশিং স্প্রে : ব্রাজিল বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটা আরেক পদ্ধতি হচ্ছে ভ্যানিশিং সেপ্র। যেটি মাঠে ব্যবহার করার জন্য রেফারির কাছে প্রদান করা হয়। সচরাচর কোনো ফ্রি কিক বা পেনাল্টি শট নেবার আগে বলের অবস্থান এবং প্রতিরোধকারী খেলোয়াড়দের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছে। যেটি স্প্রে করার কিছুক্ষণ পর আপনাআপনি মিলিয়ে যায়। ডাব্লি¬উ- (ওয়াটার ব্রেক) পানি পান বিরতি: ভর দুপুরে খেলার আয়োজন এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়দের দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য এবারের আসরে পানি পান বিরতির প্রচলন ঘটায় ফিফা। ফোর্টালিজায় হল্যান্ড বনাম মেক্সিকোর মধ্যকার নকআউট পর্বের ম্যাচ দিয়ে নতুন এই ব্যবস্থার সূচনা করা হয়। ম্যাচ শুরুর আধাঘণ্টা পর এই বিরতিটি দেয়া হয়। ওই ম্যাচে হল্যান্ড ২-১ গোলে মেক্সিকোকে পরাজিত করে। এক্স—জেরডান শাকিরি: মেসিদের মত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ছাপিয়ে হন্ডুরাসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সুইস মিডফিল্ডার জেরডান শাকিরি। এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৫০তম হ্যাটট্রিক এবং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যাটট্রিক আদায় করেন জার্মান স্ট্রাইকার থমাস মুলার। ম্যাচে ৪-০ গোলে জয়লাভ করে জার্মানী। ওয়াই—ইয়ুইচি নিশিমুরা: এবারের বিশ্বকাপে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জাপানের এই রেফারি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে আসরের প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক ব্রাজিলকে প্রথম বিতর্কিত পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। ১-১ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচে নিশিমুরার উপঢৌকন হিসেবে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন নেইমার। জেড—জুনিগা: কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের আশা-ভরসার একমাত্র প্রতীক নেইমারের পিঠে হাঁটু দিয়ে আঘাত করে বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের প্রধান ভিলেনে পরিণত হন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার হুয়ান জুনিগা। তার ওই আঘাতের কারণে নেইমারের মেরুদণ্ডের কশেরুকায় চিড় ধরে। ফলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েন ওই সুপার স্টার।