এখনও আপিল করেননি সাকিব
শাস্তি কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিসিবি
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৪২
মিরপুরে সাকিব আল হাসানের বাড়িটা চিনতে এখন আর বিশেষ কষ্ট করতে হয় না। এলাকার লোকজন আঙুল তুলে দেখিয়ে দেয়, ওই যে সেই বাড়ি। গতকাল সেটা চেনা আরও সহজ হয়ে গেল। বাড়ির সামনে প্রায় সারাদিনই সাংবাদিকদের ভিড় লেগে রইলো। অবশ্য যে কারণে এই ভিড়, সেই সাকিবের দেখা মিললো না। জানা গেল না, সাকিব আল হাসান আসলেই তার নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল করবেন কি-না।
আগের দিন বোর্ড সভাপতি পত্রিকান্তরে বলেছেন, তিনি সাকিবকে আপিলের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আবেদন করলে শাস্তি কমতে পারে। তবে গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান বললেন, এমন কোনো আপিল আবেদন তারা সাকিবের কাছ থেকে পাননি এখনও। তবে সাকিবের একান্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এখনও আপিলের আবেদন কবে কি করবেন ঠিক করেননি তিনি। কিন্তু আপিল করার ব্যাপারে মনোস্থির করে ফেলেছেন।
এর আগে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে যাওয়া, অনাপত্তিপত্র না নেয়া, কোচের সঙ্গে আপত্তিকর বাক্য বিনিময়সহ নানা কারণে বিসিবি সাকিবকে ছয় মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে এবং দেড় বছরের জন্য বাতিল করা হয় তার অনাপত্তিপত্র। তখন কেউ জানতেন না যে, এই আদেশের বিপক্ষে সাকিব আপিল করতে পারবেন কি-না।
জালাল ইউনুস গতকাল বললেন, আপিল করার সুযোগ সাকিবের সবসময়ই ছিল। বোর্ড সভাপতি সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলেও জানালেন এই পরিচালক, ‘আপিল করার সুযোগ কিন্তু সবসময় আছে। সাকিব আমাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। সে যেকোন সময় তার শাস্তির ব্যাপারে আপিল করতে পারে। গতকাল সে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দেখা করছে। আমরা জানতে পেরেছি সে বোর্ড সভাপতির কাছে ব্যক্তিগত ভাবে অনুরোধ করেছে শাস্তি কমানোর জন্য। এখন এই অনুরোধ রাখা বোর্ডের ব্যাপার। তবে বোর্ড সভাপতি তাকে একটা আভাস দিয়েছেন।’
এর মধ্যে আবার কোচের বিবেচনা গ্রহণ করার একটা ব্যাপারও আলোচনায় এসেছে। গুঞ্জন আছে যে, কোচ নিজেই বোর্ডকে শাস্তি কমানোর অনুরোধ করেছেন। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও বলেছেন, কোচের সঙ্গে আলাপ করবেন তারা। তবে জালাল ইউনুস বললেন, এ বিষয়ে কোচের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই, ‘এই বিষয়টাতে কোচকে কেন সম্পৃক্ত করা হচ্ছে? এর সঙ্গে কোচের সম্পর্ক নেই। শাস্তি দিয়েছে বোর্ড। সাকিব আপিল করলে সেটা বোর্ডই বিবেচনা করবে।’
এই শাস্তি ও আপিল প্রসঙ্গে পাশাপাশি শাস্তির কারণ নিয়েও বাজারে নানারকম জল্পনাকল্পনা আছে। শাস্তির কারণ পরিষ্কার কখনোই করেনি বোর্ড। ইদানিং শোনা যাচ্ছে, বিসিবির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাহারা গ্রুপের শর্ত না মেনে বিজ্ঞাপনে জাতীয় দলের জার্সি পরাতেও সাকিবের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছিল বোর্ড। সেটা কাল স্বীকারও করে নিলেন জালাল ইউনুস, ‘হ্যা, এটাও একটা ইস্যু, কমার্শিয়াল ইস্যুও অন্যতম একটা ইস্যু। সাহারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল। তারা অভিযোগ করেছে এ ব্যাপারে। যেহেতু সাকিব বিজ্ঞাপনে জাতীয় দলের জার্সি পরা ছিল। ফলে অনিয়ম তো হয়েছেই।’
পাশাপাশি জালাল ইউনুস জানালেন যে, সাকিবের অনুশীলন করতে কোনো বাধা নেই। তার অনুশীলন সূচি জাতীয় দল ম্যানেজমেন্টই ঠিক করে দেবে, ‘সাকিব যে কোন সময় অনুশীলন করতে পারে। সে আমাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। তার অনুশীলন সূচি ম্যানেজমেন্ট ঠিক করবে।’
এর আগে প্রায় একই ধরনের তথ্য জানিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি। তিনি পত্রিকান্তরে বলেছেন যে, সাকিব তার শাস্তি কমানোর অনুরোধ নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। সভাপতি মনে করেন, সাকিব এতোদিন নিষিদ্ধ থাকাটা জাতীয় দলের জন্যই ক্ষতিকর। তাই তিনি এক ধরনের সবুজ সংকেত দিয়েই দিয়েছেন। তবে শাস্তি কমলেও তাতে জিম্বাবুয়ে সফরে সাকিবের যাওয়া হবে না। কারণ বোর্ড সভাপতি মনে করেন, সাকিবকে কিছু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দলে আরও যারা শৃঙ্খলা মানতে অরাজি খেলোয়াড় আছেন; তাদেরও শৃঙ্খলাপরায়ণ করা যাবে।