হাইকোর্ট মাজারে ইফতারে সামিল ধনী-গরিব

মাগরেবের আজনের সামান্যই বাকি। হাইকোর্টের মাজারে সারি সারি রোজাদার বসেছেন ইফতারে। সামনে প্লাস্টিকের পাত্রে ইফতার সাজানো। আছে সরবত, খেজুর, জিলেপি, পেঁয়াজু, বেগুনী, মুড়ি। মোনাজাত হচ্ছে দেশের দশের মাগফিরাতের জন্য। মোনাজাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আশ্রাফুল হক। জানা যায়, এই মোনাজাতের বিশেষ বরকতের জন্য এখানে ধনী গরিব কয়েক হাজার রোজাদার প্রতিদিন ইফতারে সামিল হন। কেউ বলেন মাজারে শায়িত হযরত শাহ খাজা শরফ উদ্দিন চিশতি (বাঃ) (আঃ) বড়ই কামেল ছিলেন। তার মাজারে ইফতার করা সওয়াবের বিষয়। গতকাল হাইকোর্টে মাজারে গিয়ে দেখা যায় এমন নানা মনোভাব নিয়ে রোজাদাররা জড়ো হয়েছেন। যাত্রাবাড়ী থেকে আসা আলমগীর হোসেন জানান, তিনি সপ্তাহে একদিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই মাজারে ইফতার করেন। এখানে এলে তার ভাল লাগে। লালবাগের ব্যবসায়ী রবিউল আলম বলেন, বিশেষ মোনাজাতের বরকতের আশায় তিনি আসেন এখানে। বাড়ি লালবাগে তারপরও প্রতিদিন তিনি এখানে ইফতারে সামিল হন। হাজী পাড়ায় থাকেন নাসিরউল ইসলাম। নাসির জানান, মাজারে অনেক রোজাদারের সাথে ইফতার করলে তার অন্য রকম একটা উপলব্ধি হয়। আলহাজ্ব করিমুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ইফতারের জন্য আসেন হাইকোর্টের মাজারে। আবুল কাশেম এসেছেন সাভার থেকে। তিনি বলেন, একবার হাইকোর্টে এক মামলার কারণে এসে এখানে ইফতার করার সুযোগ হয়। তারপর থেকে সময় পেলে আসেন। ইফতার করে তারাবিহ নামাজ শেষ করে বাড়ি যান। পারিবারিক এক সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য মাজারে নিয়ত করে সূতা বাঁধতে বলেন এক হুজুর। সেই উদ্দেশ্যে যাত্রাবাড়ী থেকে এসেছেন ননদ-ভাবী শিখা ও লিপি। তারা জানতেন না এখানে এমন ইফতারে আয়োজন থাকে। এখানে এসেই দেখা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাজ নাহার নাজমুল বলেন, তারা এক সাথে ইফতারে বসেন। তাজ নাহার জানান, ১৫ বছর আগে তার মেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। তখন থেকে তিনি মনের শান্তির জন্য এই মাজারে আসেন। রোজার সময় তার এখানে আসা নিয়মিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন অনেক গরীব এখান থেকে ইফতার নিয়েও যায়। এখানে ছেলে মেয়েদের আলাদা বসার ও নামাজের ব্যবস্থা আছে। মেয়েদের দেখা শোনা করেন লতা বেগম। তিনি জানান, অনেক মা তাদের মেয়েদের নিয়ে আসেন। ১৮ বছর কর্মজীবনে তিনি অনেক নারীর সাথে পরিচিত হয়েছেন, যারা নিয়মিতভাবে আসেন। আবার প্রতিদিনই বাড়ে নতুন মানুষের সংখ্যা। মেয়েদের দিকটা দেখা শোনার জন্য তাদের পাঁচ জন কর্মী আছে। মাজারের পক্ষে মাওলানা মোহাম্মদ আশ্রাফুল হক বলেন, প্রায় সব সময়ই মাজারে একটি বিশাল অংকের মানুষ আসেন। প্রতিদিনের নামাজ,মিলাদ,জিকিরে অংশ নেন তারা। রোজায় মুসল্লির সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ে। রোজার মধ্যে আবার বৃহস্পতি- শুক্রবার বিশাল সমাবেশ হয়। প্রায় দশ/বার হাজার মুসল্লি রোজার শুক্রবারে ইফতারে সামিল হন। তারা অনেক সময় জায়গা দিতে পারেন না। তখন মুসল্লিরা রাস্তা পর্যন্ত অবস্থান নেন। মাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্বাসউদ্দিন জানান নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আবেদন আছে। আবেদনটি গৃহীত হলে তারা নতুন ভবন নির্মাণ করে বাড়তি মানুষের জায়গা দিতে পারবেন। এতো রোজাদারের ইফতারের আয়োজন কিভাবে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্বাস উদ্দিন বলেন, আমাদের অনেক ডোনার আছেন তারা খাদ্য সামগ্রী দেন। তাদের বাবুর্চি তা রান্না করেন। কম হলে মাজারের দান বাক্সের গৃহীত টাকায় কেনা হয়। তাছাড়াও প্রতিদিন তারা এক ডেগ চাল-ডাল মাংস দিয়ে কাঙ্গালি ভোজের জন্য খিচুড়ি রান্না করেন।