কারুশিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় রঙ বাহারি জামদানি
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৪
ময়ূরকণ্ঠী নীলে সবুজ পাড়, সাথে জরির কাজ, অসাধারণ এক জামদানি শাড়ি। ডেমরা নোয়াপাড়ার তাঁতি মো. জসিম জানালেন শাড়ির নাম করোলা। শাড়িটি করতে পাকা তাঁতির একমাস সময় লেগেছে। দাম ষোল হাজার টাকা। দাম কি একটু বেশি? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই শাড়িই নামি দামি দোকানে বিশ পঁচিশ হাজার টাকা দাম হাঁকাবে। আমরা সামান্যই লাভ রাখি। ঠিক তাই তাঁতিদের হাত থেকে এতিহ্যবাহী জামদানি আপনি শপিংমল কিংবা বুটিকসপের চেয়ে অনেক সুলভে পাবেন। আর ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে জামদানি কারুশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের তৈরি নান্দনিক রূপ ও বৈচিত্রের অনবদ্য সৃষ্টি জামদানি পণ্যসামগ্রীর প্রদর্শনী ও মেলা নিয়ে বসেছেন। মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্। অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জামদানি একটি বংশানুক্রমিক কারুশিল্প। বিসিক জামদানি শিল্পের উন্নয়নে কারুশিল্পীদের একই স্থানে শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে উত্সাহ প্রদান, উত্পাদন বৃদ্ধি ও বিপণন সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমাদের জামদানি শিল্পকর্মের শুরুটা পুরোপুরি জানা না গেলেও প্রাচীন ইতিহাস থেকে, ঐতিহাসিক ও পর্যটকগণের অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায়, আমাদের ঐতিহ্যবাহী মসলিনই আজকের জামদানি। বিসিক চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে জামদানির শিল্প উন্নয়নে বিসিক তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলে সকলকে আশ্বস্ত করেন।
মেলায় মোট ৩৭ স্টলে করোলাসহ তেরছা, জলপাড়, পান্নাহাজার, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, আঙ্গুরলতা, ময়ূরপ্যাঁচপাড়, বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা ইত্যাদিসহ আরও অনেক বাহারি নামের জামদানি শাড়ির পসরা বসেছে। মেলা চলবে ২৩ জুলাই অবধি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।