রাসিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুঃস্থদের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২২:১৮
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পদ্মার ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে সাহায্যের অংশ হিসেবে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা মূল্যের শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও রাসিকের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
রাসিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান আলী বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন-৩)। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মা নদীর ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ ৫০ জন ব্যক্তির প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১৫ ও ১৬ জুলাই কাউন্সিলর কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মূলকপি এবং একটি ১০ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ উপস্থিত থাকতে হবে।
তবে রাসিকের ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর (জোন-৮) শাহনাজ বেগম শিখা অভিযোগ করেন, অনুদানের অর্থ প্রদানের জন্য গত বুধবার সবাই উপস্থিত হন। নিয়ম অনুযায়ী সবার স্বাক্ষর, টিপসই নেয়া হয়। কিন্তু ৫০ জন দুস্থ ব্যক্তির প্রত্যেককে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা দামের একটি শাড়ি অথবা একটি লুঙ্গি দেয়া হয়েছে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও দায়িত্বে থাকা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা বাকি টাকা লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ ওই নারী কাউন্সিলরের। তিনি গরীব মানুষের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাসিকের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী খরবোনা এলাকার বাসিন্দা আহাদ আলী, শাহাদ আলী, আনজু বেওয়া ও নীলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে লুঙ্গি ও শাড়ি দিয়েছেন, টাকা দেননি। টাকা না দেয়ার বিষয়টি বাইরে না জানানোর জন্য বলেছেন। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান আলী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী সকলকে টাকা দেয়া হয়েছে। তবে লুঙ্গি ও শাড়ি প্রদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, সামনে ঈদ, তাই ওয়ার্ডের দুস্থ নারী এবং পুরুষদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে।