উপজেলায় পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলুন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রতিটি উপজেলায় পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে নগরের সুবিধা দিতে তাঁর সরকার কাজ করছে। আর এজন্য প্রত্যেক উপজেলা নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। যেখানে গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, আলাদা শিল্প এলাকা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ সবকিছু থাকবে পরিকল্পিতভাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা বিকেন্দ ীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে অধিকতর শক্তিশালী করতে হবে। আর স্থানীয় সরকার যত শক্তিশালী হবে, জনগণও তত বেশি সেবা পাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নজর না দেয়ার জন্য পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসকদের সমালোচনা করেন।
অপরিকল্পিত নগরায়নের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সব জায়গায় দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে। যত্রতত্র নগরায়নের ফলে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হচ্ছে। দেশের স্বার্থেই চাষের জমি রক্ষা করতে হবে।
পরিকল্পিত নগরায়ন ও দেশব্যাপী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সবাই ঢাকা থাকতে চায়। যারা গ্রামে থাকে তারা কেন নগরের সুবিধা পাবে না? ঢাকা শহরে যারা বসবাস করবে তারা প্লট পাবে, ফ্ল্যাট পাবে, আর আমাদের গ্রামের মানুষ পাবে না, তারা উন্নত জীবন পাবে না এটা কেমন কথা? এ বৈষম্য তো হতে পারে না। আমরা চাই গ্রামের মানুষও নগরের সুবিধা পাবে। তারাও ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকবে। আবার গ্রামীণ পরিবেশের মতো তাদের গরু পালার ব্যবস্থাও থাকবে। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুত্ দিচ্ছি, উন্নতমানের জীবনযাপন করাতে চাচ্ছি। আর সেজন্য পরিকল্পিত নগরায়ন হলে এই সেবাগুলো দ্রুত দিতে পারব।
আগামীতে সমবায়ের নামে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের উন্নয়ন ও জাতীয় উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে আয় বাড়াতে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব কেন্দ্র থেকে করে দেবে এটা ঠিক নয়। আপনারাও স্থানীয় পর্যায়ে আয় বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নের কাজ করুন। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর স্তর পুনঃবিন্যাস করে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন-শৃংখলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা এসব সংস্থায় ন্যস্ত করা হবে।
সমবায় খাতকে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রাম সমবায় নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। গ্রামে-গঞ্জে মেহনতী মানুষের যৌথ মালিকানায় সমপদ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের প্রয়াস নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্যোগী যুব সমাজ সমবায়ের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সফলতা লাভ করছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। খাদ্য উত্পাদন বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গে তরি-তরকারি, গম, ভুট্টা এগুলোতে আমরা গুরুত্ব দেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধনমূলক কর্মসংস্থান, কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি, সমবায়ভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য সহজ শর্তে মূলধন যোগান দিচ্ছ। ক্ষুদ্র ঋণসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এজন্য সরকার বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দরিদ্র মানুষের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বৃদ্ধিমূলক পেশা নির্বাচন ও বিকল্প আয়ের উত্স সৃষ্টির জন্য ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসরত ১ কোটি পরিবারের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্যমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সেতু, কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের প্রকৌশলীদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে গড়ে তোলা হবে। আমাদের মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে আমাদের কাজগুলো শেষ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব এম এ কাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের
সঙ্গে ইফতার করবেন আজ
বিশেষ প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে ইফতার করবেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে।