সুষমা স্বরাজ প্রথম সফরে বাংলাদেশে আসায় খুশি যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) শক্তিশালী করতে ভারতের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। একইসঙ্গে গত জুনে ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রথম সফরে বাংলাদেশে আসায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির নিকট পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-কমিটির এক শুনানিতে তিনি এ সন্তোষের কথা জানান। ‘ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী করা’ শীর্ষক শুনানিতে নিশা দেশাই বলেন, ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রথম বিদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। সার্ককে শক্তিশালী করতে ভারতের এ পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অংশীদারিত্ব এশিয়াতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়তা করবে। যে কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে একুশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মোদী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শক্তিশালী করতে এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশের নেতাদের আমন্ত্রণের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদী প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন। এটা ভারত ও এ অঞ্চলের জন্য সুসংবাদ এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও সহায়ক। এশিয়ার উন্নয়নে আগামী কয়েক দশকে একটি শক্তিশালী ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব উত্তরোত্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক সহযোগিতা ও সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভারত তাদের সকল প্রতিবেশিকে বৃহত্তর উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একত্রিত করতে পারে। বর্তমানে ভারত তার প্রতিবেশি দেশের চেয়ে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বেশি বাণিজ্য করে থাকে যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। তিনি আরো বলেন, নতুন সিল্ক রোড এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডোর স্ট্রাটেজি ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা পালনে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখলে এশিয়ায় যেকোন শক্তির উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে। এ সময় গণতান্ত্রায়নের উপর জোর দেন তিনি। চলতি মাসের শেষদিকে নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত সংলাপে সহ-সভাপতিত্ব করতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান তিনি।